📝 নিজস্ব সংবাদদাতা, Todays Story:দিন দিন বেড়েই চলেছে ধর্ষণের ঘটনা। নাবালিকা থেকে প্রৌঢ়া – ছাড় পাচ্ছ না কেউ। ধর্ষণ এক সামাজিক ব্যাধি। ধর্ষকের শাস্তি হওয় উচিত ফাঁসি। তবুও সব দোষী শাস্তি পায় কি? নিত্য দিন তাদের কাম – লালসা – বিকৃত মানসিকতার শিকার হতে হচ্ছে কোনো না কোনো মেয়েকে। তবে এমন টা যদি হয় ধর্ষণের আগেই কোনো প্রযুক্তির মাধ্যমে ধর্ষকের মস্তিষ্ক সম্পূর্ণরূপে বদলে ফেলা গেল আর তারপর তাকে ফিরিয়ে দেওয়দি হল আর বাকি পাঁচ জনের মতোই সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনে? তাহলে কেমন হয়? উত্তর লুকিয়ে হিন্দি শর্ট ফিল্ম ‘Retribution’ – এ। পরিচালক পরিচালক : কৌশিক দাস। অভিনয়ে : দেবাশিস রায়, তনুকা সেনগুপ্ত, অপরাজিতা ঘোষ।
সায়েন্স-ফিকশন সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার শর্ট ফিল্ম সম্প্রতি রিলিজ হয়েছে। রিলায়েন্স এন্টারটেইনমেন্টের (Reliance Entertainment) সৌজন্যে ২০২৬ সালের জুলাই মাসে ইউটিউবে মুক্তি পাওয়া এই চলচ্চিত্রটি মূলত অপরাধ, মানসিক আঘাত এবং সামাজিক ন্যায়বিচারের এক জটিল সমীকরণ নিয়ে তৈরি।
চিত্রনাট্য অনুযায়ী, শর্ট ফিল্মটির মূল চরিত্র ‘একা’ (Eka) নামের একজন মা, যার ছোট মেয়ে একটি মারাত্মক অপরাধের শিকার হয়েও বেঁচে ফেরে।
আইনি প্রক্রিয়ায় অপরাধী সাজা পাওয়ার পরেও একজন মা হিসেবে একার ভেতরের মানসিক যন্ত্রণা ও ক্ষোভ প্রশমিত হয় না। তিনি প্রচলিত সাজার বাইরে গিয়ে নিজেই “রিট্রিবিউশন” (Retribution) নামক একটি গোপন পরীক্ষামূলক রিসার্চ প্রজেক্ট তৈরি করেন।একজন ডাক্তার এবং পুলিশের নজরদারিতে সেই সাজাপ্রাপ্ত অপরাধীকে এই বিশেষ ফেসিলিটিতে নিয়ে আসা হয়। সেখানে তাকে এমন এক মনস্তাত্ত্বিক প্রক্রিয়ার মুখোমুখি করা হয়, যা তার করা অপরাধের ভয়ংকর মানসিক প্রভাব তাকে নিজের ভেতরেই অনুভব করতে বাধ্য করে। শেষে সিনেমাটি দর্শকদের সামনে একটি বড় প্রশ্ন তুলে ধরে—অপরাধীকে কেবল শাস্তি দেওয়াই কি প্রকৃত ন্যায়বিচার, নাকি এটি এক অন্তহীন প্রতিশোধের চক্র তৈরি করে? এটি একাধারে সাইন্স-ফিকশন (Sci-Fi), ক্রাইম ড্রামা এবং সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার। সিনেমাটিতে নারী নিরাপত্তা, মানসিক ট্রমা এবং সামাজিক দায়বদ্ধতার মতো স্পর্শকাতর বিষয়গুলো অত্যন্ত দক্ষতার সাথে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
নিজের অভিনীত চরিত্রটি সম্পর্কে বলতে গিয়ে দেবাশিস জানিয়েছেন, “আমরা “Retribution” ছবিটির শুটিং করেছিলাম ২০২১ সালের একেবারে গোড়ার দিকে, ঠিক যখন কোভিড-১৯ মহামারীর প্রকোপ কিছুটা কমতে শুরু করেছিল। তখন আমার বয়স ছিল প্রায় ২৬–২৭ বছর, সবে চলচ্চিত্র জগতে পথচলা শুরু করেছি। পরিচালক কৌশিক দাসের বয়স তখন মাত্র ২১। Retribution তৈরি হয়েছিল প্রথাগত পেশাদার প্রযোজনার থেকে একেবারে ভিন্নভাবে। বাণিজ্যিক ছবি তৈরির সঙ্গে যুক্ত সেই চেনা সুযোগ-সুবিধা আমাদের ছিল না — না ছিল বড় ইউনিট, না ছিল ট্রলি, ক্রেন, শোল্ডার রিগ কিংবা ARRI বা Venice-এর মতো উচ্চমানের ক্যামেরা, না ছিল আলাদা মেকআপ, কস্টিউম ডিজাইন বিভাগ বা একাধিক সহকারী পরিচালক। আমাদের দলটা ছিল মাত্র ১০ থেকে ১৫ জনের, যাদের বেশিরভাগই কৌশিকের পরিবারের সদস্য। আসলে এটা ছিল এমন একটা স্বপ্ন, যাকে আমরা সর্বস্ব দিয়ে তাড়া করছিলাম। Retribution-এর শুটিং ছিল একইসঙ্গে রোমাঞ্চকর ও ঝুঁকিপূর্ণ একটা প্রয়াস — আমরা তখন নিজেদের সামর্থ্যের চেয়ে অনেক বেশি এগিয়ে গিয়ে কাজ করছিলাম, উপযুক্ত বাজেট বা অভিজ্ঞ দিশা ছাড়াই, কেরিয়ারের একেবারে প্রাথমিক পর্যায়ে দাঁড়িয়ে। ছবিতে আমি অভিনয় করেছিলাম খলনায়ক তথা নেগেটিভ লিড রনির চরিত্রে। কাস্টে ছিলেন — আমি (রনি), বাংলা চলচ্চিত্র জগতের পরিচিত অভিনেত্রী অপরাজিতা ঘোষ, যিনি ছিলেন ছবির পেইন প্রোটাগনিস্ট একা; স্বাতী মুখোপাধ্যায়, যিনি আমার মায়ের চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন; দীপক হালদার; এবং কলকাতার আরও বেশ কয়েকজন অভিনেতা-অভিনেত্রী, যাঁদের মধ্যে মুম্বই থেকে আমাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছিলেন রোহিত আসফোরে।শেষ পর্যন্ত আমরা ভাগ্যবান ছিলাম যে সঙ্গীত পরিচালক হিসেবে পাশে পেয়েছিলাম নবারুণ বসুকে। পাঁচ বছরের অক্লান্ত পরিশ্রম আর ধৈর্যের পর ছবিটি তুলে নেয় রিলায়েন্স এন্টারটেইনমেন্ট, এবং আজও তা তাদের চ্যানেলে দেখা যায়।”

