হাওড়া ও কলকাতা পুরসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে পূর্ণ প্রস্তুতিতে বিজেপি, প্রার্থী পদে আবেদনের শেষ দিন ২৬ অক্টোবর

নিজস্ব সংবাদদাতা, Todays Story : আসন্ন হাওড়া ও কলকাতা পুরসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে সম্পূর্ণ প্রস্তুতি শুরু করেছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। নির্বাচনে প্রার্থী বাছাই থেকে শুরু করে ওয়ার্ডভিত্তিক প্রচার এবং নাগরিক পরিষেবার বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরতে দল ইতিমধ্যেই একাধিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। শনিবার এক সাংবাদিক সম্মেলনে এই কথা জানান বিজেপির বর্ষীয়ান নেতা ও মাননীয় রাজ্যসভা সাংসদ শ্রী রাহুল সিনহা।সাংবাদিক সম্মেলনে রাহুল সিনহা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে হাওড়া পুরসভায় নির্বাচন না হওয়া এবং নাগরিক পরিষেবার অবনতির জন্য তৃণমূল কংগ্রেসের সরকার দায়ী। তিনি বলেন, রাজনৈতিক সুবিধার কথা মাথায় রেখে প্রথমে বালি পৌরসভাকে হাওড়া কর্পোরেশনের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল এবং পরে আবার পৃথক করে দেওয়া হয়। এর ফলে হাওড়ার প্রশাসনিক ও নাগরিক পরিষেবার সমস্যা আরও প্রকট হয়েছে। নিকাশি ব্যবস্থা, রাস্তাঘাটের বেহাল দশা এবং সার্বিক নাগরিক পরিষেবার ঘাটতি নিয়ে তিনি রাজ্য সরকারের ভূমিকার সমালোচনা করেন।কলকাতা পুরসভার প্রসঙ্গেও তিনি অভিযোগ করেন, নাগরিক পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে যে সহায়তা এসেছে, তার যথাযথ ব্যবহার হয়নি। ফলে কলকাতার নাগরিক পরিষেবা ও পরিকাঠামোর যে উন্নয়ন হওয়া প্রয়োজন ছিল, তা সম্পূর্ণভাবে বাস্তবায়িত হয়নি।আসন্ন পুরসভা নির্বাচন প্রসঙ্গে রাহুল সিনহা বলেন, নির্বাচনের নির্দিষ্ট দিনক্ষণ এখনও ঘোষণা না হলেও বিজেপি হাওড়া ও কলকাতা—দুই পুরসভাতেই পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে এগোচ্ছে। তাঁর বক্তব্য, এবারের নির্বাচনে বিজেপিকে কার্যত একাই লড়াই করতে হচ্ছে। অন্যান্য বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির প্রস্তুতি ও সক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, বিজেপি গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে পূর্ণ শক্তি নিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে প্রস্তুত।*অবাধ, শান্তিপূর্ণ ও রক্তপাতহীন নির্বাচনের বার্তা*রাহুল সিনহা বলেন, অতীতে হাওড়া ও কলকাতা পুরসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে হিংসা, বোমাবাজি, গুলি এবং সন্ত্রাসের অভিযোগ উঠেছে। বিজেপি চায়, এবারের নির্বাচন সম্পূর্ণ অবাধ, শান্তিপূর্ণ ও রক্তপাতহীন হোক। তিনি জানান, দলের কর্মীদের ইতিমধ্যেই শান্তি বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোনও কর্মী বা সমর্থক যাতে অশান্তি সৃষ্টির সঙ্গে যুক্ত না হন, তা নিশ্চিত করতে দল সতর্ক থাকবে। কেউ অশান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করলে দলের তরফে ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের দায়িত্ব পুলিশ প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের।*২৬ অক্টোবর প্রার্থী পদে আবেদনের শেষ দিন*আসন্ন নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার জন্য দলীয় কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ রয়েছে বলে দাবি করেন রাহুল সিনহা। তাঁর কথায়, ১৯৮০ সালে দলের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে তিনি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন, কিন্তু পুরসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এমন ব্যাপক আগ্রহ আগে দেখেননি।তিনি স্পষ্টভাবে জানান, হাওড়া ও কলকাতা পুরসভা নির্বাচনে বিজেপির প্রার্থী পদে আবেদনের শেষ দিন *২৬ অক্টোবর, ২০২৬*। ওই তারিখের পর আর কোনও আবেদন গ্রহণ করা হবে না বলে তিনি ঘোষণা করেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জমা পড়া আবেদনগুলি পর্যালোচনা করে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে প্রার্থী নির্বাচন করা হবে।প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে দলীয় কর্মীদের অগ্রাধিকার, জয়ের সম্ভাবনা এবং প্রার্থীর স্বচ্ছ ভাবমূর্তিকে গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে জানান তিনি। তাঁর বক্তব্য, বিজেপির সদস্য এবং এলাকার মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য, স্বচ্ছ ভাবমূর্তিসম্পন্ন ও জয়ী হওয়ার যোগ্য ব্যক্তিদেরই প্রার্থী করার বিষয়ে দল বিশেষ গুরুত্ব দেবে। কোনও সামাজিক অপরাধে যুক্ত বা এলাকায় নেতিবাচক ভাবমূর্তির অধিকারী ব্যক্তিকে প্রার্থী করার ক্ষেত্রে দল সতর্ক থাকবে বলেও তিনি জানান।*ওয়ার্ডভিত্তিক চার্জশিট প্রকাশ করবে বিজেপি*হাওড়া ও কলকাতা পুরসভার প্রতিটি ওয়ার্ডে নাগরিক পরিষেবা, উন্নয়নের খামতি এবং সরকারি অর্থের ব্যবহার নিয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করার পরিকল্পনার কথা জানান রাহুল সিনহা। বিধানসভা নির্বাচনের আগে দলের নেওয়া উদ্যোগের অনুরূপভাবে পুরসভা নির্বাচনেও ওয়ার্ডভিত্তিক *‘চার্জশিট’* প্রকাশ করা হবে বলে তিনি জানান।তাঁর অভিযোগ, তৃণমূল কংগ্রেসের শাসনকালে নাগরিক উন্নয়নের অর্থের অপব্যবহার হয়েছে এবং বহু ক্ষেত্রে উন্নয়নমূলক কাজ বাধাপ্রাপ্ত হয়েছে। বিজেপি এই বিষয়গুলি ওয়ার্ডভিত্তিক তথ্যের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরবে বলে তিনি জানান।*হাওড়া ও কলকাতার সার্বিক উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি*রাহুল সিনহা বলেন, বিজেপি হাওড়া ও কলকাতার নাগরিক পরিকাঠামোর আমূল পরিবর্তন ঘটাতে চায়। কলকাতাকে দেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ মহানগর হিসেবে গড়ে তোলার পাশাপাশি হাওড়াকেও আধুনিক, পরিচ্ছন্ন এবং উন্নত নাগরিক পরিষেবাসম্পন্ন শহর হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্য রয়েছে দলের।তিনি আরও বলেন, হাওড়া ও কলকাতার উন্নয়নে আধুনিক পরিকল্পনা, উন্নত নিকাশি ব্যবস্থা, উন্নত রাস্তাঘাট এবং নাগরিক পরিষেবার সম্প্রসারণের উপর গুরুত্ব দেওয়া হবে। কেন্দ্রীয় সরকারের সহযোগিতা ও দলের পরিকল্পনার মাধ্যমে দুই শহরের উন্নয়নকে আরও গতিশীল করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।আসন্ন নির্বাচনে বিজেপির সাংগঠনিক প্রস্তুতির কথা উল্লেখ করে রাহুল সিনহা বলেন, দল কর্মীদের নিয়ে পূর্ণ শক্তিতে নির্বাচনে নামছে। হাওড়া ও কলকাতার মানুষকে বিজেপির পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দুই শহরের বর্তমান পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটিয়ে উন্নত, পরিচ্ছন্ন ও নাগরিক-বান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলাই বিজেপির লক্ষ্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *