মমতা শিবিরের প্রার্থীঘোষণা: নন্দীগ্রামে দিদিমণি, রবিউলকে ফেরানো হল রেজিনগরে! সোমবার করবেন ঋতব্রতেরাও

📝 নিজস্ব সংবাদদাতা, Todays Story: এই মুহূর্তে তৃণমূলের প্রতীক কার কাছে থাকবে, তা নিয়ে নির্বাচন কমিশনে লড়াই চলছে। যদিও রবিবার সকালেই শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বিবৃতি দিয়ে বলেন, “কমিশন আমাদের ১৬ ও ১৭ সেপ্টেম্বর হাজির হওয়ার জন্য বলেছে। আমাদের প্রার্থীরা যথারীতি দলের নিজস্ব প্রতীক নিয়েই উপনির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।”

অন্য দিকে, রেজিনগরে ফের প্রার্থী হিসেবে রবিউল আলম চৌধুরীর নাম ঘোষণা করা হয়েছে। প্রসঙ্গত, ২০১৩ সালে উপনির্বাচনে কংগ্রেসের প্রতীকে জিতে রেজিনগর থেকে প্রথম বার বিধায়ক হয়েছিলেন তিনি। ২০১৬ সালেও ওই আসন থেকেই দ্বিতীয় বার জয়ী হন। কয়েক মাসের মধ্যেই কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দেন রবিউল। ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটেও রেজিনগর থেকে জোড়াফুল প্রতীকে জয়ী হন তিনি।

তবে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে রেজিনগর থেকে তাঁকে সরিয়ে বেলডাঙায় প্রার্থী করে তৃণমূল। অন্য দিকে, রেজিনগরে তৃণমূলের প্রার্থী করা হয় আতাউর রহমানকে। বেলডাঙা এবং রেজিনগর—দুই আসনেই পরাজিত হন তৃণমূল প্রার্থীরা।

বিধানসভা ভোটে পরাজয়ের পর তৃণমূল দুই ভাগে বিভক্ত হয়েছে। বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে ৬৫ জন বিধায়ক বিধানসভায় নিজেদের ব্লক তৈরি করেছেন। পাশাপাশি, তৃণমূলের প্রতীকের দাবিতে নির্বাচন কমিশনের কাছে আবেদন জানিয়েছেন ঋতব্রতেরা। কমিশন বর্তমানে দুই পক্ষের যুক্তি-পাল্টা যুক্তি খতিয়ে দেখছে। সেই পরিস্থিতিতেই নিজেদের প্রকৃত তৃণমূল দাবি করে দুই আসনে প্রার্থী দিয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির।

প্রসঙ্গত, শনিবার দিল্লিতে দুই পক্ষের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেছে নির্বাচন কমিশন। তার পরেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিঠি দিয়েছে কমিশন। আগামী বুধবার পর্যন্ত দুই পক্ষকে নিজেদের বক্তব্য এবং প্রয়োজনীয় নথি জমা দেওয়ার সময় দেওয়া হয়েছে। ঘটনাচক্রে, ওই দিনই দুই আসনে মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন। তাই রবিবার রাতে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করে কার্যত ঋতব্রত শিবিরের উপর পাল্টা স্নায়ুর চাপ তৈরি করল মমতার শিবির। এখন দলের নিয়ন্ত্রণ ও প্রতীক বিতর্কে তাঁদের আর কিছু বলার বা নতুন কোনও নথি জমা দেওয়ার থাকলে তা কমিশনকে জানাতে হবে। প্রয়োজন হলে কমিশন ফের শুনানির আয়োজন করতে পারে।

ইতিমধ্যে এই দুই আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে বাম ও কংগ্রেস। নন্দীগ্রামে সিপিআই প্রতীকে প্রার্থী হয়েছেন শান্তি গিরি। কংগ্রেসের প্রার্থী মিলন প্রধান। অন্য দিকে, রেজিনগরে বাবার ছেড়ে দেওয়া আসনে আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রতীকে লড়ছেন হুমায়ুন কবীরের পুত্র গোলাম নবি আজাদ। কংগ্রেসের হয়ে লড়বেন মহম্মদ আব্দুল্লাহি কাফি। বামফ্রন্টের প্রার্থী হয়েছেন সৈয়দ আসাদ আলি। এই দুই আসনে এখনও প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেনি বিজেপি।

পশ্চিমবাংলার দুই আসনের পাশাপাশি অসমের নগাঁও বিধানসভা কেন্দ্রেও উপনির্বাচন হবে। সেই আসনেও প্রার্থী দিয়েছে মমতার দল। নগাঁওয়ে কালীঘাট তৃণমূলের প্রার্থী হয়েছেন আব্দুল সালাম।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *