📝 নিজস্ব সংবাদদাতা, Todays Story: ‘ভুয়ো’ চিকিৎসক বিতর্ক: নির্মল-সুদীপ্তদের বিরুদ্ধে বিধাননগর পুলিশে দায়ের অভিযোগ, বাতিল পাঁচ জনের রেজিস্ট্রেশন
অ্যাকাউন্টটির অস্তিত্ব সবার নজরে আসে ২০২০ সালে। টাকা তোলার জন্য ১৭ লক্ষ এবং ১ লক্ষ টাকার দু’টি চেক ইস্যু করার পরে। দু’টি চেকই ব্যাঙ্ক ফেরত পাঠায়। কারণ, রিজ়ার্ভ ব্যাঙ্কের নিয়ম অনুযায়ী এই ধরনের অ্যাকাউন্টে প্রতি দু’বছর অন্তর ‘সাইনিং অথরিটি’র বদল না-ঘটলে লেনদেন বন্ধ করে দেওয়া হয়। কিন্তু জিমার অ্যাকাউন্টটিতে ২০১৫ থেকে ২০১৮, তিন বছরে ‘সাইনিং অথরিটি’র কোনও বদল ঘটেনি। তা ছাড়া, স্বাক্ষরের অধিকারী ব্যক্তিরা তখন জিমার কোনও পদেও ছিলেন না।
বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি গঠন করে আইএমএ। গত বছর সেপ্টেম্বরে দিল্লি থেকে কলকাতায় এসে অফিসের হিসাবরক্ষক-সহ ভারপ্রাপ্ত আধিকারিকদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন তদন্ত কমিটির সদস্যেরা। পরের মাসের ১১ তারিখ জমা দেওয়া রিপোর্টে বলা হয়, হিসাবরক্ষক-সহ দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকদের ‘ভয়’ দেখিয়ে এই অ্যাকাউন্টের বিষয়টি গোপন রাখতে বলা হয়েছিল। ‘জিমা’র অডিটরও জানান, তাঁকে এই অ্যাকাউন্টের কথা কখনও জানানো হয়নি।
১৭ লক্ষ টাকার চেকটি ইস্যু করা হয়েছিল ‘দিশা মেডিহেল্প’ নামে একটি সংস্থাকে। তাতে সই করেছিলেন উজ্জ্বল সেনগুপ্ত। চেকের পিছনে একটি মোবাইল নম্বর ছিল। তদন্তকারীরা খোঁজ নিয়ে দেখেন, সেটি শান্তনু সেনের। ‘দিশা মেডিহেল্প’-ও তাঁরই কার্যালয়!
আইএমএ-র সদস্যদের প্রশ্ন, এই অ্যাকাউন্টে জমা পড়া টাকার উৎস কী? অ্যাকাউন্টের বিষয় গোপন রাখতে কেন ভয় দেখানো হয়েছিল? অ্যাকাউন্ট থেকে কত বার টাকা গিয়েছিল ‘দিশা মেডিহেল্প’-এর কাছে? ‘‘এই সব প্রশ্নের যথাযথ জবাব দিতে না-পারলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা তদন্ত কমিটির রিপোর্টেই বলা আছে।’’ দাবি আইএমএ-র শিলিগুড়ি শাখার সচিব সজল বিশ্বাসের।
রিপোর্ট জমা পড়েছে এক বছর হতে চলল। কারও বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তদন্ত কমিটির প্রধান ছিলেন আইএমএ-র প্রাক্তন সর্বভারতীয় সভাপতি অজয় কুমার। তিনি বলেন, ‘‘আমরা তদন্ত করে রিপোর্ট জমা দিয়েছি। ঠিক কী ঘটেছে, তা স্পষ্ট ভাবে লেখা রয়েছে। এর পরও কেন পদক্ষেপ করা হয়নি তা আইএমএ-র সভাপতি, সম্পাদক বলতে পারবেন।’’ আইএমএ-র সর্বভারতীয় সম্পাদক শর্বরী দত্ত ফোন ধরেননি। মেসেজের জবাব দেননি। তাঁর প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেলে এই প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে। আর সর্বভারতীয় সভাপতি অনিল জে নায়েক সব শুনে বলেছেন, ‘‘আমি এই ঘটনার কিছু জানি না!’’ মুখ খুলতে চাননি ২০২০ সালে আইএমএ-র যিনি অর্থসচিব ছিলেন, সেই জ্যোতির্ময় পালও।
‘‘তদন্তের নির্দেশ দেওয়া যখন দেওয়া হয়েছিল তখন শর্বরী দত্তের সঙ্গে শান্তনু সেনের সম্পর্ক ছিল আদায়-কাঁচকলায়। পালাবদলের পরে দু’পক্ষই এখন শাসক ঘনিষ্ঠ হতে চাইছেন। তাই তদন্তের রিপোর্টও হিমঘরে চলে গিয়েছে।’’ বলছেন আইএমএ-র প্রাক্তন রাজ্য সম্পাদক কাজলকৃষ্ণ বণিক। আইএমএ-র কলকাতা শাখার সভাপতি এবং সুদীপ্ত-ঘনিষ্ঠ অসীম সরকারের বক্তব্য, ‘‘কড়েয়া থানায় অভিযোগ জানাতে গিয়েছিলাম। কিন্তু অভিযোগ নেওয়া হয়নি। শান্তনু তৃণমূলের আমলেও প্রভাবশালী ছিলেন, এখনও প্রভাবশালী।’’ তাঁর দাবি, শান্তনুর আমলে আইএমএ-র রাজ্য শাখায় কোটি কোটি টাকা নয়ছয় হয়েছে।

