📝 নিজস্ব সংবাদদাতা, Todays Story: ১৮ এপ্রিল ২০২৬ আন্তর্জাতিক অস্থিরতার জেরে আবারও বিপাকে পড়লেন ভারতীয় নাবিকরা। ইরান-ইসরাইল সংঘাতের প্রভাব সরাসরি পড়েছে হরমুজ প্রণালীতে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে প্রণালী বন্ধ থাকায় প্রায় ২৫০-রও বেশি জাহাজ আটকে রয়েছে সারজা ও পি এল-সহ একাধিক বন্দরে। এরই মধ্যে রয়েছে নদিয়ার কৃষ্ণনগরের বাসিন্দা মহম্মদ সাইদুল্লা শেখের কর্মরত জাহাজটিও।
সাইদুল্লা ২০২৩ সাল থেকে ওই সংস্থায় ইঞ্জিনিয়ার পদে কর্মরত এবং গত ১২ মার্চ তিনি এই জাহাজে যোগ দেন। পরিকল্পনা ছিল, হরমুজ প্রণালী খুললেই জাহাজ গুজরাটে পৌঁছাবে এবং সেখান থেকে ছুটি নিয়ে বাড়ি ফিরবেন তারা।
সাইদুল্লার সঙ্গে জাহাজে রয়েছেন আরও তিনজন পশ্চিমবঙ্গের কর্মী। নবদ্বীপের অরবিন্দ ঘোষ স্টুয়ার্ড হিসেবে এবং হুগলির খানাকুলের রাহুল পল্লি পাম্প ম্যান হিসেবে মার্চ মাসেই এই জাহাজে যোগ দেন। গত ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতির পর ধীরে ধীরে কিছু জাহাজ চলাচলের অনুমতি পেলেও ভাগ্য সহায় হয়নি তাদের।
জানা গিয়েছিল, দু’দিন আগেই তাদের জাহাজ হরমুজ প্রণালী পার হয়ে ভারতের উদ্দেশ্যে রওনা দেবে। কিন্তু হঠাৎই বিপত্তি—জাহাজের ক্যাপ্টেনের বাবার মৃত্যু হওয়ায় তাকে দেশে ফিরতে হয়। নতুন ক্যাপ্টেন যোগ না দেওয়া পর্যন্ত যাত্রা স্থগিত রাখা হয়।
এরপর শনিবার আবার আশার আলো দেখা গিয়েছিল। খবর আসে, হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়া হয়েছে এবং সন্ধ্যা ৬টায় তাদের জাহাজ যাত্রা শুরু করবে। কিন্তু প্রস্তুতির শেষ মুহূর্তে, ভারতীয় সময় বিকেল ৫টা নাগাদ নতুন করে ধাক্কা—ইরান ঘোষণা করে,স্ট্রেইট অফ হরমুজ ও গালফ অফ ওমান অঞ্চলে আমেরিকান সেনা মোতায়েনের কারণে অনির্দিষ্ট কালের জন্য প্রণালী সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হবে।
এই পরিস্থিতিতে ঘরে ফেরা আবারও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে সাইদুল্লাদের। তবে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েননি তিনি। সাইদুল্লা জানান,তার বাবা পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের কর্মী এবং প্রতিদিন তাকে বাবা,মা সাহস জুগিয়ে যাচ্ছেন। ছোট থেকেই NCC এবং চারুচন্দ্র কলেজে পড়াকালীন NSS করার ফলে তার মানসিক দৃঢ়তা অনেকটাই শক্ত। তাই এই যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতেও ভেঙে না পড়ে তিনি ‘Todays Story’-এর প্রতিনিধিকে জানান, “এক মাস হোক কিংবা তিন মাস, আমরা জাহাজ নিয়েই দেশে ফিরব। এই পরিস্থিতি আমরা নিশ্চিতভাবেই জয় করব।”
গত এক মাস ধরে প্রায় প্রতিদিনই তারা আমেরিকান নৌবাহিনীর নজরদারি ও আকাশে মিসাইল চলাচলের দৃশ্য প্রত্যক্ষ করছেন,আবার ভারতের উদ্দেশ্যে জাহাজ যাত্রা শুরু করবে—এই আশাতেই দিন গুনছেন সাইদুল্লা, অরবিন্দ, রাহুলরা।

