📝 নিজস্ব সংবাদদাতা, Todays Story: রবীন্দ্র সরোবরের ভেতরে কোনো ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান নয় – পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল একথা বলেছেন, কিন্তু যখন নিয়মকানুন বেছে বেছে প্রয়োগ করা হয়, বিশেষ করে ধর্মীয় ঐতিহ্যের মতো অত্যন্ত আবেগপ্রবণ এবং ব্যক্তিগত বিষয়ে, তখন হতাশ হওয়াটা সম্পূর্ণ বোধগম্য।
এই সমস্যার মূল কারণ হলো রবীন্দ্র সরোবরের উপর আরোপিত কঠোর পরিবেশগত নির্দেশাবলী, যা কলকাতার অন্যতম প্রধান পরিবেশগত ‘ফুসফুস’ হিসেবে বিবেচিত।
আইনি কাঠামো ও মন্ত্রীর নির্দেশ
পশ্চিমবঙ্গের নগর উন্নয়ন ও পৌর বিষয়ক মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল যখন হ্রদটি পরিদর্শন করেন, তখন তাঁর এই নির্দেশ যে ছট পূজা সহ কোনো ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান এর চত্বরে অনুমোদিত হবে না, তা কোনো বিচ্ছিন্ন রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ছিল না।
এনজিটি-র আদেশ:
রবীন্দ্র সরোবরে ছট পূজা এবং অন্যান্য বড় মাপের ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের উপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞাটি মূলত ন্যাশনাল গ্রিন ট্রাইব্যুনাল (এনজিটি) দ্বারা জারি করা হয়েছিল এবং সুপ্রিম কোর্ট দ্বারা বহাল রাখা হয়েছিল।
এই নিষেধাজ্ঞার পেছনের প্রধান কারণ হলো পরিবেশ সংরক্ষণ। প্রধান আচার-অনুষ্ঠানগুলিতে হাজার হাজার মানুষ জলে প্রবেশ করেন, প্রদীপ জ্বালান এবং ফুল, তেল ও প্লাস্টিক রেখে যান, যা জলের জৈব-রাসায়নিক অক্সিজেন চাহিদাকে মারাত্মকভাবে বাড়িয়ে দেয় এবং হ্রদের ভঙ্গুর জলজ বাস্তুতন্ত্র ও পাখির সংখ্যার জন্য হুমকি সৃষ্টি করে।
বিকল্প ব্যবস্থা:
ধর্মীয় অনুভূতি এবং পরিবেশগত আইনের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার জন্য, কলকাতা পৌরসভা (কেএমসি) ছট পূজার জন্য বিশেষভাবে শহর জুড়ে কয়েক ডজন কৃত্রিম ঘাট তৈরি করেছে, যেগুলিতে জল পরিশোধন ব্যবস্থাও রয়েছে, যাতে প্রাকৃতিক হ্রদ ধ্বংস না করে উৎসবটি উদযাপন করা যায়।
ওজু (উপাসনা) সম্পর্কে কী পরিবেশগত ত্রুটি হিসেবে গণ্য হবে ?
ওজু (প্রার্থনার আগে আনুষ্ঠানিক ধৌতকরণ) প্রথার ক্ষেত্রে, চলমান হতাশার মূল কারণ প্রায়শই কোনো সুস্পষ্ট আইনি ছাড়ের চেয়ে এর ব্যাপকতা এবং দৃশ্যমানতার পার্থক্য:
গণজমায়েত বনাম দৈনন্দিন রুটিন:
ছট পূজার মতো উৎসবগুলি একই সময়ে বিপুল সংখ্যক মানুষকে সরাসরি জলাশয়ে টেনে আনে।
ওযু সাধারণত একাকী বা ছোট দলে করা হয়, যা ব্যক্তিরা তাদের দৈনন্দিন কাজের অংশ হিসেবে কাছের মসজিদ বা হ্রদ এলাকা ব্যবহার করে থাকেন।
এর ফলে তাৎক্ষণিক ও দৃশ্যমান পরিবেশগত প্রভাব বা গণহারে আবর্জনা ফেলার মতো ঘটনা ঘটে না।
আইন প্রয়োগে “ত্রুটি”:
তা সত্ত্বেও, যদি ব্যক্তিরা ক্রমাগত ওযু, স্নান বা কাপড় ধোয়ার জন্য হ্রদের প্রধান জলাশয়গুলো ব্যবহার করেন, তবে তা পার্কের অভিন্ন নিয়ম প্রয়োগে একটি ত্রুটি হিসেবে গণ্য হবে।
কলকাতার পরিবেশ কর্মীরা হ্রদে মানুষের সব ধরনের স্নান, ধোয়াধুয়ি এবং আবর্জনা ফেলাকে এনজিটি-র পরিবেশগতভাবে সংবেদনশীল অঞ্চলের নির্দেশিকার লঙ্ঘন হিসেবে বারবার চিহ্নিত করেছেন।
ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ
মন্ত্রীর সাম্প্রতিক ঘোষণায় পরিবেশ আইনের কঠোর ও সার্বিক প্রয়োগের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
পরিবেশবান্ধব নীতির চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো জল দূষণকারী সমস্ত মানবিক কার্যকলাপ বন্ধ করা এবং হ্রদটিকে সকল নাগরিকের সুরক্ষার জন্য আইনটি যেন সমানভাবে প্রযোজ্য হয় তা নিশ্চিত করা।

