📝 নিজস্ব সংবাদদাতা, Todays Story:আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় আকস্মিক দুর্যোগপূর্ণ ঝড়বৃষ্টি ও শিলাবৃষ্টির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বর্তমানে বায়ুমণ্ডলের পরিস্থিতি বজ্রঝড় তৈরির পক্ষে অনুকূল হয়ে উঠছে।
১৫ ই মার্চ উত্তরবঙ্গের বেশ কিছু জেলায় এবং দক্ষিণবঙ্গের কিছু অংশে ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলেও ১৬ ই মার্চ থেকে ২০ শে মার্চ সময়সীমায় গোটা রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় দানবীয় কিউমুলোনিম্বাস প্রকৃতির বজ্রমেঘ তৈরি হতে পারে। এর ফলে বজ্রঝড়ের স্কোয়াল লাইন রাজ্যের বিভিন্ন জেলার উপর দিয়ে অগ্রসর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সবচেয়ে বেশি সক্রিয়তা দেখা যেতে পারে ১৬ ই মার্চ ও ১৭ ই মার্চ।
এই সময়ে ক্ষণস্থায়ী দমকা ঝড়ের গতিবেগ ঘন্টায় ৪০–৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত থাকতে পারে। এছাড়াও কিছু কিছু স্থানে মাইক্রোব্রাস্ট ধরনের তীব্র ঝড়বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। দূর থেকে বজ্রমেঘের গর্জন, বিদ্যুতের ঝলকানি এবং আচমকা দমকা হাওয়া অনুভূত হতে পারে।
সম্ভাব্য প্রভাব পড়তে পারে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় যেমন —
দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার, উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর, মালদা, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, হাওড়া, হুগলি, কলকাতা, নদীয়া এবং উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলায়।
এই সময়সীমায় দৈনিক ৫০–৭৫ শতাংশ এলাকায় বজ্রঝড়ের সম্ভাবনা থাকতে পারে এবং কোনো কোনো দিনে ২৫–৫০ শতাংশ এলাকায় বৃষ্টিপাত লক্ষ্য করা যেতে পারে।
⚠️ সতর্কতা :
আতঙ্কিত না হয়ে আকাশের পরিস্থিতি বুঝে সতর্কতা অবলম্বন করুন। আকাশে ঘন কালো মেঘ দেখা গেলে খোলা মাঠে, খোলা ছাদে, বড় জলাশয়ের পাশে কিংবা বড় গাছের নিচে দাঁড়াবেন না। বজ্রঝড়ের সময় দ্রুত নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিন।
গত কয়েকদিনে উত্তরবঙ্গের বেশ কিছু অংশে এই ধরনের দানবীয় ঝড়বৃষ্টি ইতিমধ্যেই দেখা গেছে। কোথাও বহু গাছ ভেঙে পড়েছে, কোথাও উড়ে গেছে টিনের চাল। আলু ও ভুট্টা সহ বিভিন্ন ফসলের ক্ষেতেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।
এখন দেখার বিষয় আগামী ২৪–৭২ ঘণ্টায় রাজ্যের বাকি অংশে এই দুর্যোগ কতটা প্রভাব ফেলে।

