বিধানসভার বিরোধী দলনেতার ঘর না পেয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়লেন শোভনদেব

📝 নিজস্ব সংবাদদাতা, Todays Story:বালিগঞ্জের প্রবীণ বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে তৃণমূলের পরিষদীয় দলের নেতা (বিরোধী দলনেতা) নির্বাচিত করা হলেও, বিধানসভায় তাঁর বসার ঘর পাওয়া নিয়ে তৈরি হলো তীব্র আইনি ও রাজনৈতিক জটিলতা। সোমবারও বিধানসভার বিরোধী দলনেতার ঘরটি তালাবন্ধই রইল। এই ঘটনার নেপথ্যে উঠে এসেছে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) একটি চিঠি, যাকে কোনোভাবেই মান্যতা দিতে রাজি নয় বিধানসভার সচিবালয়।

বিতর্কের মূলে অভিষেকের এক্তিয়ার:
বিধানসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে পরিষদীয় দলের নেতা নির্বাচিত করার পর তৃণমূলের পক্ষ থেকে বিধানসভার সচিবালয়ে যে চিঠি পাঠানো হয়, তাতে সই ছিল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। আর এখানেই আপত্তি তুলেছে সচিবালয়।

নিয়ম কী বলছে?
বিধানসভার নিয়ম অনুযায়ী, পরিষদীয় দল সংক্রান্ত যেকোনো চিঠি বা দাবি জানানোর এক্তিয়ার শুধুমাত্র সেই দলের বিধায়কদেরই রয়েছে।

সচিবালয়ের যুক্তি হল—অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় লোকসভার সাংসদ, বিধানসভার সদস্য নন। তাই বিধানসভার রুল বুক অনুযায়ী তাঁর দেওয়া চিঠির কোনো আইনি বৈধতা নেই। যিনি বিধানসভার সদস্য নন, তাঁর চিঠির ভিত্তিতে বিরোধী দলনেতার ঘর বা অন্যান্য সুবিধা ছাড়া সম্ভব নয়।

সচিবালয় এই আপত্তির কথা স্পষ্ট করে দেওয়ার পরই এদিন বিধানসভা চত্বরে ক্ষোভে ফেটে পড়েন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। ঘটনার প্রতিবাদে তিনি তথ্যের অধিকার আইনে (RTI) একটি আবেদনও জানান।
প্রবীণ এই রাজনীতিক বলেন, অতীতে বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় স্পিকার থাকাকালীন এমনটা ঘটেনি। তাঁর কথায়, “একটা সময়ে তৃণমূলের একমাত্র বিধায়ক ছিলাম আমি। তখন রাস্তায় বসে দল করেছি। দরকার হলে এবারও রাস্তায় বসে যাব, কিন্তু কোনও আবেদন-নিবেদন করতে যাব না। এটা অন্যায়।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *