‘অভিষেককে সরিয়ে দিন, দল আবার একজোট হয়ে লড়বে’! ঋতব্রত শিবিরে যোগ দিয়েই মমতাকে বার্তা মদন মিত্রের

📝 নিজস্ব সংবাদদাতা, Todays Story:আদিগঙ্গার পাড়ে কালীঘাটে ভাঙনপর্বের প্রথম থেকেই ‘বিদ্রোহী’ থেকে শুরু করে এখনও মমতার সঙ্গে থাকা নেতাদের নিশানায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তার শুরুটা নির্বাচনের ভরাডুবির পর ৩০ বি হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটে দলের প্রথম বৈঠক থেকেই। দলের জয়ী বিধায়কদের মমতা নির্দেশ দেন অভিষেকের লড়াইকে সম্মান জানিয়ে উঠে দাড়িয়ে অভিবাদন জানাতে। দলনেত্রীর নির্দেশ অমান্য করেন বাগনানের বিধায়ক অরুণাভ সেন। বর্তমানে তিনি বিদ্রোহী শিবিরের অন্যতম মুখ।

এর পর ধাপে ধাপে যাঁরাই মমতার হাত ছেড়েছেন, তাঁরাই দলের বিপর্যয়ের জন্য দায়ী করেছেন আইপ্যাক এবং অভিষেককে। এমনকি মমতার সঙ্গে থেকেও আইপ্যাককে দলের ভরাডুবির জন্য দায়ী করেছেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিষেকের সঙ্গে মতান্তরের জেরে হাইকোর্টে তার মামলা থেকেও সরে যাওয়ার কথা ঘোষণা করেছিলেন কল্যাণ। পরে মিটমাট হলেও, অভিষেককে নিয়ে উষ্মা বিভিন্ন সময়েই প্রকাশ্যে চলে এসেছে। এমনকি সাম্প্রতিক অতীতে মমতা শিবিরের প্রথম সারির মুখ হিসেবে উঠে আসা বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষও বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েছেন অভিষেকের সঙ্গে।

ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় অভিষেকের প্রাইভেট জেট বিমান চড়া নিয়ে কটাক্ষ থেকে শুরু করে ‘চাটার্ড মাফিয়া’ বলেও আক্রমণ করতে ছাড়েননি। বুধবার ঋতব্রত শিবিরে যোগ দেওয়ার পরেই মদন মিত্রও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পর্কে আক্রমণাত্মক। কখনও হিটলারের সঙ্গে তুলনা করেছেন আবার কখনও সরাসরি অভিযোগ করেছেন দুর্নীতির। একই সুর বীরভূমের অনুব্রত মণ্ডলের গলাতেও।

চার্টার বিমানের পর এবার সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডায়মন্ড হারবার ফুটবল ক্লাব নিয়েও দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছেন ঋতব্রত। তিনি বলেন, ‘‘দলের এই বিপুল পরিমাণ টাকা কোথায় গেল? জানতে চাই, ডায়মন্ড হারবার ক্লাবের মাধ্যমে দলের টাকা কি কেরল হয়ে মধ্যপ্রাচ্য হয়ে ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জে গিয়েছে?’’

উল্লেখ্য, ঋতব্রত শিবিরের বিধায়কদের দলীয় তহবিল নিয়ে করা অভিযোগের ভিত্তিতেই তদন্ত শুরু করেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। ইডির বিবৃতি অনুসারে তৃণমূলের দলীয় তহবিল থেকে বিপুল অর্থ বিমান সংস্থার মাধ্যমে পাচার হয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে। এই তহবিল তছরুপের প্রসঙ্গ উত্থাপন করে ফের অভিষেককে নিশানা করেছেন ঋতব্রত।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যদিও প্রথম দিন থেকেই অভিষেকের পাশেই দাঁড়িয়েছেন। মদন মিত্র বিদ্রোহী শিবিরে যোগ দেওয়ার পরেও, অভিষেক সম্পর্কে মদন মিত্র বা অনুব্রত মণ্ডলের মন্তব্যকে আমল দেননি মমতা। তাঁর কথায়, ‘‘এগুলো সবই দল ছাড়ার বাহানা।’’ ভাইপোকে দরাজ সার্টিফিকেট দিয়ে বলেছেন,‘‘বাঘের মতো লড়ছে অভিষেক।’’ বিদ্রোহীদের উদ্দেশে তাঁর বার্তা, ‘‘যদি আপনাদের চোখে অভিষেক কোনও অপরাধ করেও থাকে, তা আমি ক্ষমা করে দিয়েছি, কারণ ও লড়ছে।’’ বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষের প্রতিক্রিয়া, ‘‘ওঁর কিছু মনে হতেই পারে। সেটা দিদিকে বলার সুযোগ আগেও পেতেন, ভবিষ্যতেও পাবেন। ইডি মদনদাকে পারিবারিক নিমন্ত্রণটা দেওয়ার আগে তিনি যদি এই কথাগুলো বলতেন, তা হলে একটা অর্থ হত। কিন্তু ইডি-র কাছ থেকে পারিবারিক নিমন্ত্রণ পাওয়ার পরে তিনি এই কথাগুলো বলায় সকলেই বুঝতে পারছেন যে, এটা ওই পক্ষের কাছে ভাল সাজার চেষ্টা মাত্র।’’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *