প্রত্যাবর্তনের মহাকাব্য লিখে ফাইনালে আর্জেন্টিনা, স্বপ্ন ভাঙল ইংল্যান্ডের, এবারও কাপ গেল না হোমে

📝 নিজস্ব সংবাদদাতা, Todays Story: সব

গল্পের শেষ একরকম হয় না। কিন্তু এবারের বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার গল্পগুলো যেন একই রকম। সেই পিছিয়ে পড়া, হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা, তারপর হঠাৎ করেই ফিরে আসার এক অবিশ্বাস্য মহাকাব্য লিখে দিচ্ছেন মেসিরা।

হল। একের পর এক সুযোগ তৈরি হল। কিন্তু ঠোঁট আর পেয়ালার মধ্যে ব্যবধান থেকেই গেল। কখনও জর্ডন পিকফোর্ড, কখনও ভাগ্যের সাহায্য না পাওয়ায় গোলের দেখা পাচ্ছিল না আর্জেন্টিনা।

উলটে ৫৫ মিনিটে ইংল্যান্ড প্রথম আঘাত হানে। মরগান রজার্সের নিখুঁত ক্রস থেকে মার্কারের দৃষ্টি এড়িয়ে অ্যান্থনি গর্ডন দারুণ ফিনিশ করে যান। আর্জেন্টিনার রক্ষণে তখন হাঙরের হাঁ। গর্ডনকে ফাঁকায় কীভাবে ছেড়ে দিলেন মোলিনা!

অনেকেই বলছিলেন, গোলের মুখ আর খুলতে পারবে না আর্জেন্টিান। কিন্তু মেসিরা যে হার মানতে চান না। তাঁরা যে অন্য ধাতু দিয়ে গড়া। গোল পেয়ে যাওয়ার পরে ইংল্যান্ডও হয়ে গেল রক্ষণাত্মক। অন্যদিকে গোল শোধের জন্য মরিয়া হয়ে উঠল আর্জেন্টিনা। স্পেনস দুর্দান্ত ট্যাকলে থামালেন সিমিওনেকে। ৬৪ মিনিটে লিয়ান্দ্রো পারেদেসের পরিবর্তে স্কালোনি মাঠে পাঠালেন নিকো গঞ্জালেজকে। ৬৯ মিনিটে প্রায় গোল করে ফেলেছিলেন তিনি। সে যাত্রায় পিকফোর্ড বাঁচিয়ে দেন নিকো গঞ্জালেজের হেড।

হাইড্রেশন ব্রেকের পরে তিন-তিনটি পরিবর্তন আনে আর্জেন্টিনা। লিসান্দ্রো মার্টিনেজ, নাহুয়েল মোলিনা ও জুলিয়ানো সিমিওনের বদলে মাঠে নামেন নিকোলাস ওতামেন্দি, রডরিগো দি পল ও গনজালো মন্তিয়েল। এই পরিবর্তন নতুন প্রাণ সঞ্চার করল আর্জেন্টিনার।

৭৬ মিনিটে ম্যাক আলিস্টারের হেড পোস্টে লেগে ফিরে এল। ইংল্যান্ড ভেঙে পড়ার ইঙ্গিত দিতে শুরু করে দিয়েছে ততক্ষণে। ৮৫ মিনিটে এল সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। এনজো ফার্নান্দেজের শট জড়িয়ে গেল ইংল্যান্ডের জালে। অতিরিক্ত সময়ে মেসির সেন্টার থেকে লাওতারো মার্টিনেজ ২-১ করলেন। সাত মিনিটে দুটো গোল করে আর্জেন্টিনা বুঝিয়ে দিল এভাবেও ফিরে আসা সম্ভব।

ফাইনালে আর্জেন্টিনার সামনে এবার স্পেন। এক নতুন চ্যালেঞ্জ, এক নতুন পরীক্ষা। ফাইনালের মঞ্চে মুখোমুখি হবে দুই প্রজন্মের দুই প্রতীক।

একদিকে ৩৯ বছরের বৃদ্ধ সিংহ লিওনেল মেসি। অন্যদিকে ১৯ বছরের তরুণ তুর্কি লামিন ইয়ামাল। একজন মহাকাব্যের শেষ অধ্যায় হয়তো লিখতে চলেছেন। আরেক জন ইতিহাস তৈরি করতে চান। ফাইনালের ওই লড়াই হয়তো লিখে দেবে ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে স্মরণীয় এক অধ্যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *