📝 নিজস্ব সংবাদদাতা, Todays Story:রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী মানস ভুঁইয়াকে শর্তসাপেক্ষে রক্ষাকবচ দিল কলকাতা হাই কোর্ট। চাকরি বিক্রি সংক্রান্ত একটি মামলায় গ্রেফতারির আশঙ্কা করে তিনি উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। কলকাতা হাই কোর্টের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের বেঞ্চে সোমবার সেই মামলার শুনানি ছিল। আদালত তাঁর রক্ষাকবচের আবেদন মঞ্জুর করেছে। তবে বেশ কিছু শর্ত মানতে হবে মানসকে। সবং থানা এলাকার বাইরে আপাতত তিনি বেরোতে পারবেন না।
মানসের বিরুদ্ধে সবং থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিলেন স্থানীয় এক যুবক। অভিযোগ, পাঁচ লক্ষ টাকার বিনিময়ে মানসের মধ্যস্থতাতেই তাঁর স্ত্রী চাকরি পেয়েছিলেন। কিন্তু তৃণমূল ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর দু’মাসের মধ্যে সেই চাকরি থেকে তাঁকে বরখাস্ত করা হয়। মানস নিজে অবশ্য এই অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন। কিন্তু যুবকের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ এফআইআর দায়ের করে তদন্ত শুরু করে। তাতেই গ্রেফতারির আশঙ্কা করে হাই কোর্টে যান সবংয়ের সাত বারের বিধায়ক।
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের টিকিটেই লড়েছিলেন মানস। কিন্তু বিজেপি প্রার্থীর কাছে পরাজিত হন। তার পর থেকেই বেসুরো হয়েছিলেন তিনি। গত ১৩ জুন তৃণমূল ছাড়ার কথা ঘোষণা করেন। তবে চাকরিতে প্রতারণার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে আগেই পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছিলেন সবংয়ের বিষ্ণুপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের বাসিন্দা ওই যুবক। অভিযোগ, মানসের মধ্যস্থতায় পাঁচ লক্ষ টাকা দিয়ে তিনি স্ত্রীর চাকরি নিশ্চিত করেছিলেন। গত ১ মার্চ যুবকের স্ত্রী তেমাথানী ইরিগেশন বাংলোয় সিআইএসবি সার্ভিসেস প্রাইভেট লিমিটেডের অধীনস্থ ওই চাকরিতে যোগ দিয়েছিলেন। মার্চ মাসের বেতন বাবদ পেয়েছিলেন ১০৭৪৭ টাকা। কিন্তু ৬ মে মহিলাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়। আর কোনও বেতনও দেওয়া হয়নি।
এই অভিযোগের ভিত্তিতে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৩১৮(৪) এবং ৬১(২) ধারায় মানসের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করেছে পুলিশ। আপাতত তাতেই শর্তসাপেক্ষে রক্ষাকবচ পেলেন।

