📝 নিজস্ব সংবাদদাতা, Todays Story: বাংলার লক্ষ লক্ষ যুবক-যুবতী, চাকরিপ্রার্থী এবং সরকারি কর্মচারীদের জন্য স্বস্তি ও আশার বার্তা দিয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। দক্ষিণ ২৪ পরগনার মথুরাপুরের রাইদিঘি বিধানসভা অন্তর্গত ভগবতীপুর (গোপীনাথপুর মৌজা)-এ অনুষ্ঠিত পরিবর্তন যাত্রার বিশাল জনসভা থেকে তিনি কর্মসংস্থান সৃষ্টিকে কেন্দ্র করে একটি বিস্তৃত রোডম্যাপ তুলে ধরেন এবং *পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার গঠনের ৪৫ দিনের মধ্যে ৭ম বেতন কমিশন কার্যকর করার আশ্বাস দেন*।
কর্মসংস্থান, অর্থনৈতিক নিরাপত্তা এবং প্রশাসনিক ন্যায়বিচারকে কেন্দ্র করে আন্দোলনের সুর নির্ধারণ করে তিনি বলেন, বিজেপির দৃষ্টিভঙ্গিতে বাংলার যুবকদের কর্মসংস্থান পুনরুদ্ধার এবং দীর্ঘদিনের আর্থিক বঞ্চনার অবসান ঘটিয়ে সরকারি কর্মচারীদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা হবে। তিনি ঘোষণা করেন যে *২৬ ডিসেম্বরের মধ্যে সমস্ত শূন্যপদ পূরণের প্রক্রিয়া শুরু করা হবে এবং নিয়োগে ৫ বছরের বিশেষ বয়সসীমা ছাড় দেওয়া হবে*।
আজকের এই জনসভায় অমিত শাহ পশ্চিমবঙ্গের শাসনব্যবস্থার সংস্কার, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, প্রশাসনিক জবাবদিহিতা এবং সামগ্রিক সামাজিক-অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য বিজেপির রূপরেখা তুলে ধরেন। গঙ্গাসাগরসহ বাংলার আধ্যাত্মিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং মহারাজা প্রতাপাদিত্যের ঐতিহাসিক প্রতিরোধের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, পরিবর্তন যাত্রা হল স্বচ্ছ শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা, আইন-শৃঙ্খলা পুনরুদ্ধার এবং সমগ্র রাজ্যে সমান উন্নয়ন নিশ্চিত করার একটি ঐতিহাসিক উদ্যোগ।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, বিজেপির শাসনব্যবস্থায় সরকারি কর্মচারীদের কল্যাণ এবং যুবসমাজের কর্মসংস্থান সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাবে।
*প্রধান ঘোষণা ও প্রতিশ্রুতি*
৭ম বেতন কমিশন ও সরকারি কর্মচারী
অমিত শাহ আশ্বাস দেন যে বিজেপি সরকার গঠিত হলে পশ্চিমবঙ্গের সমস্ত সরকারি কর্মচারীদের জন্য ৭ম বেতন কমিশনের সুবিধা কার্যকর করা হবে, যার ফলে দীর্ঘদিনের আর্থিক বঞ্চনার অবসান ঘটবে এবং প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত হবে।
*কর্মসংস্থান ও যুব ক্ষমতায়ন*
কর্মসংস্থানকে মূল অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরে তিনি ঘোষণা করেন—
– সমস্ত শূন্যপদ পূরণের প্রক্রিয়া ২৬ ডিসেম্বরের মধ্যে শুরু করা হবে।
– নিয়োগে বিলম্বের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত বাংলার যুবকদের জন্য সরকারি চাকরির পরীক্ষায় ৫ বছরের বিশেষ বয়সসীমা ছাড় দেওয়া হবে।
– স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নিয়োগ প্রক্রিয়া চালু করা হবে, যাতে চাকরিপ্রার্থীদের আস্থা পুনরুদ্ধার হয়।
*নারী ক্ষমতায়ন*
নারী ক্ষমতায়নের জন্য ₹৫,৭০০ কোটি টাকার একটি বিশেষ আর্থিক বরাদ্দের ঘোষণা করা হয়েছে। মা-বোনেদের মর্যাদা, নিরাপত্তা, আর্থিক স্বনির্ভরতা এবং সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে একাধিক প্রকল্প চালু করা হবে।
*শিক্ষক নিয়োগ সংক্রান্ত সমাধান*
২৬,০০০ শিক্ষক নিয়োগ সংক্রান্ত সমস্যার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আইনসম্মত ও স্বচ্ছ উপায়ে এই সমস্যার সমাধান করা হবে এবং প্রয়োজনীয় আর্থিক সংস্থান নিশ্চিত করা হবে।
*দুর্নীতির বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা*
দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে তিনি ঘোষণা করেন—
– সাম্প্রতিক সময়ে বেড়ে ওঠা দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে,
– দুর্নীতিবাজদের প্রতি রাজনৈতিক সুরক্ষা সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাহার করা হবে,
– দুর্নীতি ও সরকারি অর্থের অপব্যবহারের সঙ্গে যুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে,
– গুরুতর দুর্নীতি ও অপরাধে জড়িত ব্যক্তি ও তাদের পরিবারকে আইনের আওতায় আনা হবে।
*আইন-শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা তিনি আরও বলেন*
– বাংলায় সক্রিয় বহিরাগত মাফিয়া চক্র সম্পূর্ণরূপে নির্মূল করা হবে,
– রাজনৈতিক আশ্রয়ে থাকা অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে,
– বিশেষ করে মহিলাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইন-শৃঙ্খলা আরও জোরদার করা হবে।
*অবৈধ অনুপ্রবেশের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা*
অবৈধ অনুপ্রবেশের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়ে তিনি বলেন, আইনসিদ্ধ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করা হবে এবং সংবিধান অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে, যাতে দেশের ও সীমান্তের নিরাপত্তা সুরক্ষিত থাকে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার গঠিত হলে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং বাংলার হারানো অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক গৌরব পুনরুদ্ধার হবে—এই বিশ্বাস ব্যক্ত করেন অমিত শাহ।
তিনি রাজ্যের মানুষের কাছে পরিবর্তনের পক্ষে সমর্থন জানিয়ে বলেন, এই পরিবর্তনই বাংলার জন্য এক সমৃদ্ধ ও নিরাপদ ভবিষ্যতের পথ প্রশস্ত করবে।

