আরজি করে মমতার ভূমিকা, অভিষেকের লিপ্‌স অ্যান্ড বাউন্ডসের সম্পত্তি! নজরে দু’জনেই, জানালেন শুভেন্দু

📝 নিজস্ব সংবাদদাতা, Todays Story: মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে বসার পর শনিবার শুভেন্দুর প্রথম জেলাসফর ছিল, দক্ষিণ ২৪ পরগনার ডায়মন্ড হারবারে। যেখানকার সাংসদ অভিষেক। আগামী ২১ মে ফলতার পুনর্নির্বাচন উপলক্ষে সভা করেন শুভেন্দু। তার আগে ডায়মন্ড হারবারে পুলিশকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক সারেন। সেখান থেকে ঘোষণা করেন, মমতার তৈরি করার পুলিশ ওয়েলফেয়ার বোর্ড শনিবার থেকেই ভেঙে দেওয়া হল। সভায় গিয়ে মমতা এবং অভিষেককে এক পঙ্‌ক্তিতে ফেলে আক্রমণ করেন দু’টি পৃথক ইস্যুতে।

শুক্রবারই আরজি করের ঘটনায় কর্তব্যে গাফিলতির অভিযোগে তিন আইপিএস-কে সাসপেন্ড করার কথা ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। শনিবার ফলতার সভাতেও সেই প্রসঙ্গ টানেন এবং আরও তীক্ষ্ণ ভাবে তিন বারের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতাকে নিশানা করেন। শুভেন্দু বলেন, ‘‘অভয়ার ঘটনায় আগের মুখ্যমন্ত্রীর ইশারায় এবং কথায় যাঁরা যাঁরা অত্যাচার করেছেন, প্রমাণ লোপাট করেছেন, অভয়ার মাকে আগের হেরো মুখ্যমন্ত্রীর কথায় যাঁরা ঘুষ দিতে গিয়েছিলেন, সেই তিন আইপিএস সাসপেন্ড হয়েছেন। এ জেলাতেও ছাড়া হবে না। বিজেপি প্রার্থী বিশ্বজিৎ পালকে প্রকাশ্যে মেরেছিল। (তাই) বারুইপুরের আইসি সাসপেন্ড! ক্যানিংয়ে বিজেপি কর্মীর উপর অত্যাচার করেছিল। (তাই) আইসি অমিত হাতি সাসপেন্ড!’’

শুভেন্দু জানিয়েছেন, ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলার অফিসারদের তিনি কল রেকর্ডস্, হোয়াটস্‌অ্যাপ চ্যাট জমা দিতে বলেছেন। তাঁর কথায়, ‘‘ভাইপোর পিএ-র নির্দেশে কারা কারা ফলতা, ডায়মন্ড হারবার তথা দক্ষিণ ২৪ পরগনায় অত্যাচার করেছেন, সব বার করব।’’ সেই সময় আবার আরজি কর প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ‘‘বিনীত গোয়েল, ইন্দিরা মুখোপাধ্যায়, অভিষেক গুপ্তদের কল রেকর্ড, চ্যাট যখন তদন্তকারীর সামনে আনবেন, সে দিন দেখতে পাবেন, আগের সরকারের কুকীর্তি। কত নীচে নেমেছিলেন!’’

মুখ্যমন্ত্রী কারও নাম না-করে জানান, তিনি অভিষেকের সম্পত্তি সংক্রান্ত নথি এবং তথ্য সংগ্রহ করেছেন। তারও তদন্ত হবে। তাঁর কথায়, ‘‘মাননীয় ভাইপোবাবু, কাল প্রপার্টির লিস্ট আনালাম কলকাতা কর্পোরেশন থেকে। আপনার লিপস্ অ্যান্ড বাউন্ডসে্‌র ২৪টি প্রপার্টি (সম্পত্তি) কলকাতায়। আমতলায় (দক্ষিণ ২৪ পরগনা) প্রাসাদের মতো অফিস! …হিসাব হবে।’’

নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় বার বার আলোচনায় উঠে এসেছে ‘লিপস্‌ অ্যান্ড বাউন্ডস্’ নামক সংস্থাটি। ইডির অভিযোগ, ওই সংস্থার মাধ্যমে দুর্নীতির কোটি কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে কিংবা সাদা করা হয়েছে। বার বার সেই অভিযোগ নস্যাৎ করেছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক। কয়েক বার ইডির তলবে হাজিরাও দিয়েছেন তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *