প্রতারণা-প্রহসনের নির্বাচন হয়েছে, মিথ্যা মামলা সহ কার্যক্রমের স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারের দাবি : শেখ হাসিনা

📝 অনুব্রত সাহা (মিঠুন), Todays Story: বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শুক্রবার এক বিবৃতিতে জানান, ১২ ফেব্রুয়ারি দেশবাসী প্রত্যক্ষ করেছে এক পরিকল্পিত প্রতারণা-প্রহসনের নির্বাচন হয়েছে। যা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে এক কলঙ্কময় অধ্যায় হিসেবে লিপিবদ্ধ থাকবে। এটি ছিল না জনমতের নির্বাচন; এটি ছিল সংখ্যার কারসাজির ইন্ডাস্ট্রিয়াল প্রশাসনিক জালিয়াতির মহড়া।

এ নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন। ভোটগ্রহণ শুরু হয় সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে এবং চলে বিকেল ৪টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত। এই নির্বাচনে ভয়াবহ কারচুপি ও নির্বাচন কমিশনের ধাপে ধাপে প্রকাশিত ভোটের শতাংশেও গুরুতর অসংগতি ও অবাস্তব চিত্র দেখা যায়।

নির্বাচন কমিশনের প্রথম ব্রিফিং অনুযায়ী, সকাল ১১টা পর্যন্ত অর্থাৎ প্রথম ৩ ঘণ্টা ৩০ মিনিটে ভোট পড়েছে ১৪.৯৬ শতাংশ বা ১,৯১,০৫,৬৮৪ জন। সে হিসাবে প্রতি মিনিটে গড়ে ৯০,৯৭৯টি করে ভোট কাস্ট হয়েছে।

পরবর্তী ব্রিফিংয়ে দুপুর ১২টা পর্যন্ত মোট ভোটের হার জানানো হয় ৩২.৮৮ শতাংশ। অর্থাৎ সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১২টার মধ্যে এক ঘণ্টার ব্যবধানে ভোট কাস্ট হয়েছে ১৭.৯২ শতাংশ বা ২,২৮,৮০,৩৫০ জন। প্রতি মিনিটে গড়ে প্রায় ৩,৮১,৩৩৯টি ভোট কাস্ট হয়েছে। প্রথম সাড়ে তিন ঘণ্টার গড়ের তুলনায় এই হার কয়েক গুণ বেশি, যা অস্বাভাবিক। প্রথম ৩.৫ ঘণ্টায় ভোট প্রদানের হার ছিল প্রতি ঘণ্টায় ৪.২৭%; পরের ঘণ্টায় ভোটগ্রহণের হার দেখানো হয়েছে ১৭.৯২%। যদি দেশের সব কেন্দ্র (৩২,৭৮৯টি) সচল থাকে, তবে প্রতিটি কেন্দ্রে প্রতি মিনিটে গড়ে ১১.৬৩টি ভোট পড়েছে। অর্থাৎ প্রতিটি কেন্দ্রে প্রতি ৫.১৬ সেকেন্ডে একটি করে ভোট কাস্ট হয়েছে, যা প্রায় অসম্ভব।

আওয়ামী লীগের আমলে দুটি নির্বাচন বিএনপি স্বেচ্ছায় বর্জন করেছিল। শুধু তাই নয়, তারা নির্বাচন প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়ে অগ্নিসন্ত্রাসের মাধ্যমে ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছিল এবং অসংখ্য মানুষের জীবন নাশ করেছিল। অন্যদিকে আওয়ামী লীগ নির্বাচন বর্জন করেনি; আওয়ামী লীগকে বেআইনিভাবে নিষিদ্ধ করে জোর করে নির্বাচনের বাইরে রাখা হয়েছে। তথাপি, আওয়ামী লীগ নির্বাচন প্রতিহত করার ঘোষণা দেয়নি এবং কোনো ধরনের ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর পথেও হাঁটেনি। আওয়ামী লীগ দেশের জনগণকে শান্তিপূর্ণভাবে এই একতরফা নির্বাচন বর্জনের আহ্বান জানিয়েছে। দেশের জনগণ আওয়ামী লীগের আহ্বানে সাড়া দিয়ে ভোট দিতে যায়নি। যে কারণে ইউনূসের অবৈধ সরকারকে কারচুপির মাধ্যমে ভোটের সংখ্যা বাড়িয়ে দেখাতে হয়েছে।

অবৈধ ইউনূস সরকারের অধীনে এই কারচুপির একতরফা নির্বাচনের মাধ্যমে মানুষের ভোটাধিকার ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। এমতাবস্থায়, এই ভোটারবিহীন, অবৈধ ও অসাংবিধানিক নির্বাচন বাতিল, খুনি-ফ্যাসিস্ট ইউনূসের পদত্যাগ নিশ্চিতকরণ, সকল রাজবন্দিসহ শিক্ষক-সাংবাদিক-বুদ্ধিজীবীসহ সব পেশাজীবীর মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারপূর্বক মুক্তি, আওয়ামী লীগের কার্যক্রমের ওপর আরোপিত স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার এবং নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজনের মধ্য দিয়ে জনগণের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি আজ বাংলাদেশের ১৮ কোটি জনগণের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *