SIR এ ৫০ লাখ বৈধ বাঙালির নাম বাদ, ঝড়-বৃষ্টি, দুর্যোগকে উপেক্ষা করে কলকাতার রানুছায়া মঞ্চে বাংলা পক্ষর অবস্থা- বিক্ষোভ ও অনশন

📝 নিজস্ব সংবাদদাতা, Todays Story: বাঙালি জাতির আকাশে দুর্যোগ, ৫০ লাখ বৈধ বাঙালির নাম “ডিলিট” করে দিয়েছে বিজেপির নির্বাচন কমিশন। এই ৫০ লাখ বৈধ বাঙালির মধ্যে প্রায় ৩০ লাখ হিন্দু বাঙালি ও প্রায় ২০ লাখ মুসলমান বাঙালি। সংবিধানের ডিজাইন করা নন্দলাল বসুর পরিবারের সদস্য, ৪৫০ বছর ধরে ধর্মরাজ ঠাকুরের পুজো করা, অনশীলন সমিতির পরিবারের সন্তান বাঁকুড়ার মেজিয়ার ভূমিপুত্র, বাংলা পক্ষর রাজা বন্দ্যোপাধ্যায় সহ ৫০ লাখ বৈধ বাঙালির নাম কেটে দেওয়া হয়েছে। এটা কখনও মেনে নেওয়া যায় না। ১৯৭১ এবং কারগিলে যুদ্ধ জয়ী সেনার নাম বাদ। ভাবা যায়!

আজ কলকাতার আকাশে কালবৈশাখি ও বৃষ্টির দুর্যোগ থাকলেও বাংলা পক্ষ রাজপথে আছে। বাঙালি বিপদে, তাই বাংলা পক্ষ ঘরে বসে থাকতে পারে না। কলকাতার রানুছায়া মঞ্চে বাংলা পক্ষর অবস্থান- বিক্ষোভ ও অনশন চলছে।

অনশন মঞ্চে আছেন বাংলা পক্ষর সাধারণ সম্পাদক গর্গ চট্টোপাধ্যায়, শীর্ষ পরিষদ সদস্য অরিন্দম চট্টোপাধ্যায়, মহঃ সাহীন, দক্ষিণ ২৪ পরগনার সহ সম্পাদক হুমায়ুন মোল্লা, লীনা রায়, ঋত্বিকা ব্যানার্জী, প্রীতি মিত্র, সৌম্যদ্বীপ সামন্ত, কাকলি মজুমদার, রাজা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রমুখ।

এছাড়াও উপস্থিত সাংগঠনিক সম্পাদক কৌশিক মাইতি, কলকাতার জেলা সম্পাদক সৌম্য বেরা, উত্তর ২৪ পরগনা শহরাঞ্চলের সম্পাদক পিন্টু রায়, অভিজিৎ দে প্রমুখ।

সাধারণ সম্পাদক গর্গ চট্টোপাধ্যায় বলেন, “বাঙালির শত্রু বিজেপির নির্বাচন কমিশন অনৈতিক ভাবে বাঙালির ভোটাধিকার কেড়ে নিয়েছে। ৫০ লাখ বাঙালির নাম বাদ! সংখ্যাটা বুঝতে পারছো বাঙালি! ইউরোপের অনেক রাষ্ট্রে ৫০ লাখ নাগরিক নেই। এভাবে বাঙালিকে শেষ করতে চায় বিজেপি, হিন্দি সাম্রাজ্যবাদী দিল্লি। আমরা বাঙালি, মোগল ও ব্রিটিশ তাড়ানো জাতি। আমাদের এভাবে শেষ করা যাবে না৷ বাংলা পক্ষর নেতৃত্বে বাঙালি জাতি ঘুরে দাঁড়াবে এবং এই লড়াই জিতবে। এই ভোট বাঙালির অস্তিত্বের ভোট। বৈধ বাঙালির ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনার ভোট।”

কৌশিক মাইতি বলেন, “বিজেপি বাঙালিকে ঘেন্না করে। বাংলা ভাষাকে ঘেন্না করে। বিজেপি মাছ- ভাতকে, বাঙালির ইতিহাসকে ভয় পায়। আমাদের বাংলা ভাষাই আমাদের প্রতিরোধের মন্ত্র। মাছ আমাদের প্রতিরোধের অস্ত্র। প্রতিটা বৈধ বাঙালি ভোটাধিকার ফিরে না পাওয়া পর্যন্ত বাংলা পক্ষ রাস্তায় আছে। এবার বাঙালি হিসাবে ভোট দাও বাঙালির শত্রুদের পরাস্ত করতে।”

SIR এ ডিলিট হয়ে যাওয়া রাজা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আমার প্রপিতামহ অনুশীলন সমিতির সদস্য ছিল। মুচলেকা লেখেনি, জেল খেটেছিল ভারতকে স্বাধীন করতে। আমাদের বাঁকুড়ার মেজিয়ায় ৪৫০ বছরের ধর্মরাজের পুজো, ২৫০ বছরের কালীপুজো। আমার নাম ডিলিট করেছে বিজেপির দালাল নির্বাচন কমিশন। আমি রোহিঙ্গা? আমাকে বাংলাদেশে পাঠাবে বিজেপি? এই জন্য আমার পূর্ব পুরুষ স্বাধীনতার লড়াই লড়েছিল?”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *