সংস্কারের নামে হচ্ছে সম্প্রসারণ, লা মার্টিনিয়ারের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে হেরিটেজ কমিশন

📝 নিজস্ব সংবাদদাতা, Todays Story:  ঐতিহ্যবাহী লা মার্টিনিয়ার বয়েজ এবং গার্লস স্কুলে সংস্কার ও নির্মাণকাজ নিয়ে পুরসভার সিদ্ধান্তই বহাল রেখেছিল কলকাতা হাইকোর্ট। উচ্চ আদালত জানিয়েছিল, হেরিটেজ কমিশনের অনুমতি ছাড়া ওই স্কুলে কোনও সংস্কার বা নির্মাণ কাজ করা যাবে না। কলকাতা পুরসভাও স্কুল কর্তৃপক্ষকে হেরিটেজ কমিশনের অনুমতি নিতে বলেছিল। মামলায় উভয়পক্ষকে হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন বিচারপতি গৌরাঙ্গ কান্ত। পরে হেরিটেজ কমিশনের তত্ত্বাবধানেই কাজ শুরু হয়।

বর্তমানে স্কুলে গরমের ছুটি চলছে। ১১ জুন খুলবে। সংস্কারের কাজের পর স্কুল কর্তৃপক্ষ এই ছুটিতে সম্প্রসারণের কাজ করায় আদালতের দ্বারস্থ হল হেরিটেজ কমিশন। এই ঘটনায় হস্তক্ষেপ চেয়ে আবেদন করা হয়। তাদের অভিযোগ, অনুমতি না নিয়েই সম্প্রসারণের কাজ শুরু হয়েছে।

মামলা দায়েরের অনুমতি চেয়ে বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের গ্রীষ্ম অবকাশকালীন ডিভিশন বেঞ্চের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয় বুধবার। মামলা দায়েরের অনুমতি দেওয়া হয়। আগামী ৩ জুন পরবর্তী শুনানির সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে ১৮০ বছরের পুরনো লা মার্টিনিয়ার ‘গ্রেড ১’হেরিটেজ হিসেবে স্বীকৃত। এর চিহ্ন হিসেবে সেখানে ঐতিহ্যবাহী নীল ফলক বসিয়েছে কলকাতা পুরসভা। কিন্তু, হেরিটেজ হওয়া সত্ত্বেও স্কুলে সংস্কারের কাজ শুরু হয় বলে অভিযোগ ওঠে। পরে কলকাতা পুরসভার আধিকারিকরা স্কুল পরিদর্শনে যান। কাজ বন্ধের নির্দেশ দেয় কেএমসি। পুরসভার তরফে জানানো হয়, ভবনটি যেহেতু ঐতিহ্যবাহী, তাই হেরিটেজ কমিশনের অনুমতি ছাড়া সংস্কার বা নির্মাণ কাজ করা যাবে না। এই মর্মে স্কুল কর্তৃপক্ষকে নোটিশও পাঠায় পুরসভা। সেই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে লা মার্টিনিয়ার বয়েজ এবং গার্লস স্কুল কর্তৃপক্ষ কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়।

যদিও স্কুলের দাবি ছিল, পড়ুয়াদের স্বার্থে কিছু অংশে সংস্কারের প্রয়োজন। সংস্কারে সম্মতি পাওয়ার পর সম্প্রসারণ করতে উদ্যোগী হলে, স্কুল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ফের আদালতে গেল কমিশন।