📝 নিজস্ব সংবাদদাতা, Todays Story: বেহালা পশ্চিম বিধানসভা একসময় ছিল বামেদের শক্ত ঘাঁটি, তবে গত দুই দশকে এই কেন্দ্র পরিণত হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের অন্যতম শক্তিশালী দুর্গে। দীর্ঘদিন ধরেই বেহালা তৃণমূলকে নিরাশ করেনি। টানা প্রায় ২৫ বছর এই কেন্দ্রের বিধায়ক ছিলেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়। যদিও শেষ চার বছর চাকরি দুর্নীতির অভিযোগে তিনি জেলবন্দি ছিলেন, যা রাজনৈতিক সমীকরণে বড় প্রভাব ফেলেছে।
এলাকার অলিগলিতে কান পাতলেই শোনা যাচ্ছে, পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের একাংশ অনুগামী নাকি ধীরে ধীরে বিজেপির দিকে ঝুঁকছেন। অন্যদিকে, বেহালার আরেক প্রভাবশালী নেতা শোভন চট্টোপাধ্যায়ের অনুগামীদের মধ্যেও ‘খেলা হবে’ স্লোগান শোনা যাচ্ছে, এই খেলা কার বিরুদ্ধে সেটা বোঝা যাচ্ছে না, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

এই কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থী রত্না চট্টোপাধ্যায়, যিনি পূর্বে বেহালা পূর্ব কেন্দ্রের বিধায়ক ছিলেন। এবার বেহালা পশ্চিমে তাঁর বিপরীতে বিজেপি প্রার্থী ডা. ইন্দ্রনীল খান — একজন সুশিক্ষিত ও ভদ্র ইমেজের ডাক্তার, যিনি মধ্যবিত্ত বাঙালি ভোটারদের মধ্যে যথেষ্ট গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করছেন। উল্লেখযোগ্য বিষয়, তিনি বেহালারই বাসিন্দা, ফলে স্থানীয় সংযোগও তাঁর পক্ষে কাজ করছে।
অন্যদিকে, সিপিএম প্রার্থী নিহার ভক্ত থাকলেও, এই কেন্দ্রে মূল লড়াই যে তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে, তা প্রায় স্পষ্ট। যদিও বামেদের একটি ঐতিহ্যগত ভোটব্যাঙ্ক রয়েছে, তা জয়ের নির্ণায়ক হবে না বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

এছাড়াও, এলাকায় জোর গুঞ্জন যে বাম ভোটের একটি বড় অংশ এবার বিজেপির দিকে যেতে পারে। সব মিলিয়ে বেহালা পশ্চিমে এবারের লড়াই অত্যন্ত হাড্ডাহাড্ডি হলেও, বর্তমান পরিস্থিতিতে সামান্য হলেও এগিয়ে রয়েছেন ‘ডাক্তারবাবু’ ইন্দ্রনীল খান।

