বিশ্বমঞ্চে বাংলার জয়ধ্বনি: ‘চাবিওয়ালা’-র ঝড়, শ্রীলঙ্কা আন্তর্জাতিক ওয়ার্ল্ড ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে একাধিক পুরস্কার দখল

📝 নিজস্ব সংবাদদাতা, Todays Story: বাংলা স্বাধীন পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘চাবিওয়ালা’ আন্তর্জাতিক মঞ্চে এনে দিল ভারতীয় সিনেমার গর্ব। ৬ষ্ঠ শ্রীলঙ্কা আন্তর্জাতিক ওয়ার্ল্ড ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে একাধিক পুরস্কার জিতে ছবিটি নতুন সাফল্যের নজির গড়েছে। মোট ১৯টি বিভাগে অফিসিয়াল নির্বাচনের মাধ্যমে ছবিটি উৎসবে তার শক্তিশালী উপস্থিতি প্রমাণ করেছে।

এই সাফল্যের মুকুটে সবচেয়ে বড় পালক যোগ করেছেন ছবির পরিচালক, যিনি জিতেছেন সেরা পরিচালক (পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র) পুরস্কার। অভিনয় বিভাগে শুভাশিস মুখার্জি জিতেছেন সেরা পার্শ্ব অভিনেতা – ব্রেকথ্রু, কৌশিক কর পেয়েছেন সেরা অভিনেতা – জুরি বিশেষ, এবং অমৃতা চট্টোপাধ্যায় জিতেছেন সেরা অভিনেত্রী – ব্রেকথ্রু পারফরম্যান্স পুরস্কার তাঁর অনবদ্য অভিনয়ের জন্য।

প্রযুক্তিগত দিকেও ছবিটি সমানভাবে সাফল্য পেয়েছে। নবারুণ বসু জিতেছেন সেরা ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোর – আউটস্ট্যান্ডিং, যা ছবির আবেগ এবং গভীরতাকে আরও সমৃদ্ধ করেছে। পাশাপাশি ছবিটি আরও একাধিক বিভাগে সম্মান অর্জন করেছে, যা এর সামগ্রিক নির্মাণশৈলী ও গল্প বলার দক্ষতাকে তুলে ধরে।

রাজকুমার ভুঁইয়া এবং রাজা ঘোষের প্রযোজনায় নির্মিত ‘চাবিওয়ালা’ স্বাধীন সিনেমার শক্তি ও দৃঢ়তার এক উজ্জ্বল উদাহরণ। ২০১৭–১৮ সালে সম্পূর্ণভাবে স্বাধীন উদ্যোগে শুরু হওয়া এই প্রজেক্ট ধীরে ধীরে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে স্বীকৃতি অর্জন করেছে।

এই সাফল্য প্রসঙ্গে পরিচালক জানান, এই মুহূর্তটি তাঁদের সকলের জন্য অত্যন্ত আবেগঘন এবং আনন্দের। একটি স্বাধীন ছবির যাত্রা কখনোই সহজ নয়, কিন্তু বিশ্বজুড়ে দর্শকদের ভালোবাসা এই পথকে সার্থক করে তুলেছে। তিনি উৎসব কর্তৃপক্ষ, জুরি সদস্য এবং সকল সহযোগীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

নিজের সাফল্য প্রসঙ্গে অমৃতা চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘চাবিওয়ালা’-এর জন্য এই পুরস্কার পাওয়া তাঁর কাছে অত্যন্ত বিশেষ। তিনি পরিচালককে ধন্যবাদ জানান তাঁকে এমন একটি শক্তিশালী চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ দেওয়ার জন্য এবং বলেন, এই সম্মান পুরো টিমের পরিশ্রমের ফল। তিনি আরও জানান, এর আগে ঝাড়খণ্ড আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবেও এই ছবির জন্য তিনি সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার পেয়েছিলেন এবং এই সাফল্য তিনি পুরো টিমের সঙ্গে ভাগ করে নিতে চান।

এই সাফল্যের মাধ্যমে ‘চাবিওয়ালা’ আবারও প্রমাণ করল, সৎ গল্প বলার শক্তি এবং নিষ্ঠা থাকলে ভাষা ও দেশের সীমানা পেরিয়েও দর্শকদের মনে জায়গা করে নেওয়া সম্ভব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *