বসিরহাট উত্তরে আইএসএফ সভায় তৃণমূল-বিজেপিকে একযোগে আক্রমণ নওশাদ সিদ্দিকীর

📝 নিজস্ব সংবাদদাতা, Todays Story:বসিরহাট উত্তর বিধানসভায় নির্বাচনী লড়াই জমে উঠতেই রাজনৈতিক তরজা তীব্র আকার নিচ্ছে। এদিন বিকালে বেঁকি বাজার এলাকায় ইন্ডিয়া সেকুলার ফ্রন্ট (আইএসএফ) প্রার্থী মুসা কারিমুল্লার সমর্থনে জনসভা থেকে তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপিকে একসঙ্গে নিশানা করলেন আইএসএফ নেতা নওশাদ সিদ্দিকী।
সভামঞ্চ থেকে তিনি দাবি করেন, “বিজেপির গর্ভ থেকেই তৃণমূলের জন্ম”, এবং দুই দলই আসলে একই রাজনৈতিক ধারার অংশ। তার কথায়, মানুষ যেন কোনওভাবেই বিজেপি বা তৃণমূলের “বাইনারি রাজনীতির” ফাঁদে না পড়ে, বরং বিকল্প শক্তিকে সমর্থন করে। তিনি অভিযোগ করেন, রাজ্যে তৃণমূল কংগ্রেস আইনকে অপব্যবহার করছে এবং ২০২১ থেকে ২০২৬ এই সময়কালে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ায়নি।
নওশাদ সিদ্দিকী বলেন, আইএসএফ ক্ষমতায় এলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, খাদ্য ও পানীয় জলের মতো মৌলিক পরিষেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করবে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিজেপি দিল্লি থেকে এসে বাংলার পরিবেশ ও সামাজিক কাঠামো নষ্ট করতে চাইছে, আর তৃণমূল সেই প্রক্রিয়াকেই পরোক্ষে প্রশ্রয় দিচ্ছে। তার বক্তব্য, “বিজেপিকে হারাতে গিয়ে তৃণমূলকে ভোট দেওয়া মানে শেষ পর্যন্ত বিজেপিকেই শক্তিশালী করা।” এসআইআর ইস্যুতেও রাজ্য সরকারকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, মুখে বিরোধিতা করলেও বাস্তবে এই প্রক্রিয়াকে সমর্থন করছে তৃণমূল। তার অভিযোগ, এই প্রক্রিয়া পরিচালনায় সাধারণ মানুষের টাকাই খরচ করা হচ্ছে, অথচ শিক্ষা-স্বাস্থ্য নিয়ে আলোচনা আড়ালে চলে যাচ্ছে।
এদিনের সভা থেকে বড়সড় দলবদলের ঘটনাও সামনে আসে। প্রায় ৫০০ থেকে ৬০০ তৃণমূল কর্মী-সমর্থক নওশাদ সিদ্দিকীর হাত ধরে আইএসএফে যোগ দেন বলে দাবি করা হয়। দলত্যাগীদের বক্তব্য, তৃণমূলে থেকে “রাহাজানি ও গুন্ডাগিরি” সহ্য করতে না পেরে এবং স্থানীয় প্রার্থীকে পছন্দ না হওয়ায় তারা দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সব মিলিয়ে, বসিরহাট উত্তর কেন্দ্রে আইএসএফ নিজেদের শক্তি বাড়াতে মরিয়া, আর এই সভা থেকে তৃণমূল-বিজেপি বিরোধী তৃতীয় শক্তির বার্তা জোরালো করারই চেষ্টা স্পষ্ট হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *