পাঁচদফা দাবিতে শিলিগুড়িতে বাংলা পক্ষর মহামিছিল

📝 নিজস্ব সংবাদদাতা, Todays Story: ১৫ নভেম্বর শনিবার শিলিগুড়িতে বাঙালি জাতীয়তাবাদী সংগঠন বাংলা পক্ষর ডাকে কয়েক হাজার বাঙালি ও ভূমিপুত্র জনজাতির মহামিছিল অনুষ্ঠিত হয়।  এদিন বিকেলে এই মিছিল শুরু হয় উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তর বা NBDD র ভবনের সামনে থেকে শেষ হয় বিধান মার্কেট অটোস্টাণ্ডে। পাঁচ দফা দাবিকে সামনে রেখে এই মিছিল এগিয়ে চলে-
১) শিলিগুড়িকে কেন্দ্র করে লোকাল ট্রেন নেটওয়ার্ক
২) জলপাইগুড়ির দোমোহিনীতে AIIMS
৩) নেপাল বর্ডার সিল করা
৪) শিলিগুড়ি, জলপাইগুড়ি, আরিপুরদুয়ার বা কোচবিহারের কোন একটি জায়গায় কলকাতার পিজি হাসপাতালের সমমানের হাসপাতাল
৫) সাম্প্রতিক বন‍্যায় ক্ষতিগ্রস্ত উত্তরের জেলাগুলোর জন‍্য কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষতিপূরণ।

এই মিছিলে নেতৃত্ব দেন বাংলা পক্ষর সাধারণ সম্পাদক গর্গ চট্টোপাধ‍্যায়। শিলিগুড়ির জেলা সম্পাদক গিরিধারী রায়ের উদ্যোগে এই বিরাট মিছিল হয়। উপস্থিত ছিলেন সাংগঠনিক সম্পাদক তথা শীর্ষ পরিষদ সদস‍্য কৌশিক মাইতি, শীর্ষ পরিষদ সদস‍্য রজত ভট্টাচার্য ও মহ সাহীন। উপস্থিত ছিলেন শিলিগুড়ির জেলা সম্পাদক গিরিধারী রায়, জলপাইগুড়ির অভিষেক মিত্র মজুমদার, আলিপুরদুয়ারের উত্তম দাস, মালদার সাহিন বাদশা, কলকাতার সৌম‍্য বেরা, পশ্চিম বর্ধমানের অক্ষয় বন্দ‍্যোপাধ‍্যায়, পূর্ব মেদিনীপুরের জেলা সম্পাদক সুতনু পণ্ডিত, উত্তর ২৪ পরগনা গ্রামীনের জেলা সম্পাদক দেবাশীষ মজুমদার প্রমূখ জেলা সম্পাদকগণ।
রাজবংশী, রাভা সহ উত্তরের বিভিন্ন ভূমিজ জাতির সঙ্গে বাঙালির এই ঐক‍্যবদ্ধ মিছিল উত্তরের জেলাগুলোর রাজনীতিতে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।

মিছিল শেষে বক্তব‍্য রাখতে গিয়ে গর্গ চট্টোপাধ‍্যায় বলেন ” উত্তরবঙ্গ বঞ্চিত বলে যারা রাজনীতি করে, তারা কিন্তু এখানকার ভূমিপুত্রদের দাবিগুলো তুলে আনে না। বাংলা পক্ষ সেটাই করছে। এখানকার অধিকাংল সাংসদ দিল্লীর শাসকদল বিজেপির, রয়েছে মন্ত্রীসভাতেও। তারা কেউই দ্বিতীয় AIIMS বা লোকাল ট্রেন নিয়ে সংসদে সরব হয় না। বিহার, ইউপিতে দুটো করে AIIMS থাকলে বাংলায় নয় কেন? ” তিনি আরো বলেন ” খোলা নেপাল বর্ডার দিয়ে লাগামছাড়া অনুপ্রবেশ ঘটে এখানকার জনবিন‍্যাস বদলে গেছে, অথচ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কোন পদক্ষেপ নেই। আমরা চাই SIR এর মাধ‍্যমে অবৈধ বাংলাদেশী অনুপ্রবেশকারীর মত অবৈধ নেপালী অনুপ্রবেশকারীও চিহ্নিত করে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দিতে হবে। এখানকার ভূমিপুত্র নেপালীভাষীরা আমাদের বন্ধু, কিন্তু অনুপ্রবেশকারীরা নয়, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ চাই, নেপাল বর্ডার সিল করতে হবে।”

সাংগঠনিক সম্পাদক কৌশিক মাইতি বলেন, “রাজ‍্য সরকারের কাছে দাবি করছি অবিলম্বে পিজি হাসপতালের সমতুল‍্য সরকারি হাসপাতাল গড়ে তুলতে হবে। দিল্লীর বঞ্চনার বিরুদ্ধে যেমন আন্দোলন চলবে, তেমনি রাজ‍্যকেও তার দায়িত্ব পালন করতে হবে। ভয়াবহ বন‍্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়িয়ে রাজ‍্য সরকারের ভূমিকা প্রশংসনীয়। কিন্তু দিল্লী কোন দায়িত্ব নিচ্ছেনা, এতগুলো বিজেপি সাংসদ, মন্ত্রী চুপ করে আছে। এরা কোন মুখে আবার ভোট চাইবে? কেন্দ্রীয় বঞ্চনার বিরুদ্ধে আন্দোলন তীব্র হবে।”

শীর্ষ পরিষদ সদস‍্য তথা শিলিগুড়ির ভূমিপুত্র রজত ভট্টাচার্য বলেন, “এখানকার বাঙালির সঙ্গে অন‍্যান‍্য ভূমিজ জাতির বিরোধ সৃষ্টি করে বিজেপি এইসব জেলার মানুষকে সীমাহীন বঞ্চনা ভুলিয়ে দিতে চাইছে। বাংলা পক্ষর ডাকে সব ভূমিপুত্র এক পতাকার তলায় আসছে। আর বাংলাভাগের টোপ দিয়ে, বঞ্চনার গল্প শুনিয়ে ভোটে জেতা যাবে না। উত্তরের মানুষ জবাব চায়, তারা সমাধান চায়।”

গিরিধারী রায় বলেন, “আজ শিলিগুড়ি দেখলো ভূমিপুত্ররা একত্রিত হচ্ছে। আমরা বিজেপিকে এটাই বলতে চাই, এতদিন বঞ্চনার কথা ভোট পেলেন৷ এবার আমাদের দ্বিতীয় AIIMS চাই, NJP কে কেন্দ্র করে লোকাল ট্রেন চাই, শিলিগুড়িতে মেট্রোরেল চাই। ভোটে লড়া দলগুলো চুপ থাকলেও শিলিগুড়ি- জলপাইগুড়ি সহ উত্তরের জেলা গুলোর উন্নয়নের জন্য বাংলা পক্ষর লড়াই চলবে। শিলিগুড়ির বাঙালিকে বলছি, বাংলা পক্ষে যোগ দিন নিজের ভবিষ্যত প্রজন্মের স্বার্থে।”

SIR এর আবহে এই মিছিলে স্লোগান ওঠে, “দুই রাজ্যে ভোট যাদের, বাংলা থেকে তাড়াও তাদের।”
অর্থাৎ বিহার/ইউপি ও বাংলা -দু রাজ্যে ভোটার কার্ড থাকলে, বাংলার ভোটার কার্ড টা বাতিল করতে হবে।