📝 নিজস্ব সংবাদদাতা, Todays Story: SIR র নামে বৈধ বাঙালিকে গণহেনস্থা এবং ফর্ম ৬ দিয়ে বাংলার ভোটার লিস্টে বিহার-ইউপির ক্রিমিনাল ঢোকানোর অপচেষ্টার প্রতিবাদে নির্বাচন কমিশনের অফিসের সামনে বাংলা পক্ষর বিক্ষোভ ও CEO পশ্চিমবঙ্গ কে ডেপুটেশন প্রদান
নির্বাচন কমিশনে বিক্ষোভের পর Addl. CEO অরিন্দম নিয়োগীর সাথে দীর্ঘক্ষণ মিটিং করে বাংলা পক্ষ। সেখানে ভয়ঙ্কর তথ্য দেন Addl CEO. মহামান্য সুপ্রীম কোর্টের রায়ের ৪৮ ঘন্টা পরও মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেস কুমারের অফিস থেকে সুপ্রীম কোর্টের রায় কার্যকর করতে কোনো নির্দেশ আসেনি। যা অত্যন্ত বিপদজনক।
SIR নিয়ে এখন সরগরম বাংলার রাজনীতি। ভারতের নির্বাচন কমিশনের নিত্য নতুন নিয়মের ফলে বাঙালি আজ ব্যাপক ভাবে সমস্যায় পড়ছে। যৌক্তিক অসঙ্গতি বা logical discrepancy র নামে প্রায় এক কোটির বেশি বাঙালি ভোটারকে শুনানির নোটিশ পাঠানো হয়েছে। হিন্দু-মুসলমান নির্বিশেষে বাঙালি আজ নিজেকে বৈধ ভোটার তথা নাগরিক প্রমাণ করতে লাইনে দাঁড়াতে বাধ্য হচ্ছে। গ্রাম বাংলার হতদরিদ্র পরিবার থেকে নোবেলজয়ী অমর্ত্য সেন, কিংবদন্তী কবি জয় গোস্বামী থেকে আরম্ভ করে বাঙালির মহানায়ক সুভাষচন্দ্র বসুর পরিবারদের সদস্যরাও বাদ পড়ছে না। বাংলার বিভিন্ন অঞ্চলে সাধারণ মানুষ পথে নেমে প্রতিবাদ করছে।
ভারতে বাঙালির জাতীয় সংগঠন বাংলা পক্ষ এই গণ হেনস্থার প্রতিবাদে আজ মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (CEO, West Bengal) অফিসের সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে এবং আধিকারিককে ডেপুটেশন প্রদান করে।
বাংলা পক্ষ থেকে মূলত ছয়টি দাবি তুলে ধরা হয়-
১) যৌক্তিক অসঙ্গতি (logical discrepancy) -র নামে প্রতিদিন হিন্দু- মুসলিম নির্বিশেষে বাংলার সাধারণ বাঙালিকে সমস্ত কাজ ফেলে শুনানির লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে। SIR এখন খেটে খাওয়া বাঙালির কাছে এক অভিশাপ! দ্রুত এই অব্যবস্থার সঠিক সমাধান চাই।
২) ফর্ম ৬ দিয়ে ভিন রাজ্যের বাসিন্দা এমন ভোটারদের বাংলার ভোটার তালিকায় যুক্ত করার প্রচেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ ও তথ্য সামনে আসছে। এটা বিজেপি দল ও নির্বাচন কমিশনের যৌথ প্রচেষ্টা বলে মনে করছে বাংলা পক্ষ। এটা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। ভিন রাজ্যের কোনো ভোটারের নাম বাংলার ভোটার তালিকায় ঢোকানো যাবে না। ফর্ম ৬ এ আবেদন করতে হলে SDO অফিস থেকে ইস্যু করে ডোমিসাইল সার্টিফিকেট বাধ্যতামূলক করতে হবে।
৩) অন্যদিকে বাংলার প্রায় সব জেলা থেকে ফর্ম ৭ জমা করে বৈধ ভোটারদের নাম বাদ দেবার চক্রান্তের অভিযোগ সামনে আসছে। ফর্ম ৭ কারা জমা করছে তাদের নাম প্রকাশ্যে আনতে হবে এবং অভিযোগ ভুল প্রমাণিত হলে সেই ব্যক্তির বিরুদ্ধে FIR করতে হবে।
৪) ১৬ ডিসেম্বর প্রকাশিত খসড়া তালিকায় এমন লাখ লাখ ভোটারের নাম আছে যাদের দুই রাজ্যে ভোটার কার্ড আছে। এই সমস্ত অপরাধীদের নাম বাংলার ভোটার তালিকা থেকে অবিলম্বে বাতিল করতে হবে। এই বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা এখনও পর্যন্ত সন্দেহজনক।
৫) বাংলা তথা ভারতের অহংকার নোবেল জয়ী, ভারতরত্ন অর্মত্য সেন, ভারতের স্বাধীনতা লাভের কাণ্ডারি বীর সুভাষচন্দ্র বসুর পরিবারের সদস্য, কবি জয় গোস্বামীর মতো মানুষদেরও শুনানির নোটিশ প্রদান করা হচ্ছে। এটা বাংলা ও বাঙালিকে পরিকল্পিত অপমান। এর জন্য নির্বাচন কমিশনকে ধিক্কার।
৬) AI ব্যবহার করে বানানগত নানা বিভ্রান্তি তৈরি করেছে নির্বাচন কমিশন। নামের বানান ভুলের ফলে লজিকাল ডিসক্রিপেন্সি -এর নামে সাধারণ বাঙালিকে হেনস্থা বন্ধ করতে হবে। এই ভুলের দায় নির্বাচন কমিশনের। কিন্তু শাস্তি দেওয়া হচ্ছে বাঙালিকে। হিন্দিভাষী কর্মী দিয়ে বাঙালির নামের বানান ঠিক করা আসলে অপদার্থতার পরিচয়। ২০০২ এবং ২০২৫ বাংলা নাম ঠিক থাকলেও, ইংরেজি নামের বানানে গড়মিল, এর ফলে নোটিশ পাচ্ছে লাখ লাখ বাঙালি। দায় নির্বাচন কমিশনের। এটা দ্রুত বন্ধ করুন।
এদিনের প্রতিবাদ সভায় উপস্থিত ছিলেন বাংলা পক্ষর সাধারণ সম্পাদক গর্গ চট্টোপাধ্যায়, সাংগঠনিক সম্পাদক কৌশিক মাইতি, শীর্ষ পরিষদ সদস্য অরিন্দম চ্যাটার্জী, কলকাতা জেলার সম্পাদক সৌম্য বেরা, উত্তর চব্বিশ পরগনা শহরাঞ্চলের জেলা সম্পাদক পিন্টু রায়, উত্তর চব্বিশ পরগনা গ্রামীনের জেলা সম্পাদক দেবাশীষ মজুমদার, দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলা সম্পাদক কুশনাভ মন্ডল, পূর্ব মেদিনীপুরের জেলা সম্পাদক সুতনু পণ্ডিত প্রমুখ।
CEO অফিসে আলোচনা ও ডেপুটেশনের পর সাধারণ সম্পাদক গর্গ চট্টোপাধ্যায় গর্জে ওঠেন, “আজ ভারতে বীর সুভাষ চন্দ্র বসুর পরিবারকে বৈধতা প্রমাণ করতে হচ্ছে। এর থেকে লজ্জার কিছু হতে পারে না।
এমনকি সুপ্রীম কোর্টের নির্দেশের ৪৮ ঘন্টা পরেও জ্ঞানেশ কুমার কোনো পদক্ষেপ না করে সুপ্রীম কোর্টকে অমান্য করে লাখ লাখ বাঙালিকে হেনস্থা করে চলেছে। অন্যদিকে ফর্ম ৬ এর মাধ্যমে মাধ্যমে যারা বাংলার ভোটার লিস্টে নাম তুলছে তাদের হোম স্টেট প্রকাশ করতে দাবি জানিয়েছি কমিশনের কাছে। কোনো সদুত্তর তারা দিতে পারছে না৷ আমাদের দীর্ঘ মিটিং এ মনে হল CEO পশ্চিমবঙ্গ অফিসের কোনো কিছু করার ক্ষমতা নেই, জ্ঞানেশ কুমার যা বলবেন বাঙালির ক্ষতি করতে, এরা সেটাই করবে। বাঙালি অফিসারদের শিরদাঁড়া সোজা রাখতে অনুরোধ করছি।”
সাংগঠনিক সম্পাদক কৌশিক মাইতি বলেন, “বিজেপি হাওয়া গরম করে দেড় কোটি রোহিঙ্গা তাড়ানোর গল্প দিয়ে SIR শুরু করলো। খসড়া তালিকায় কোনো রোহিঙ্গা খুঁজে না পেয়ে বিজেপির নির্দেশে অমিত শাহকে খুশি করতে এক কোটির বেশি বৈধ হিন্দু-মুসলিম বাঙালিকে হেনস্থা করা শুরু হয়েছে৷ এই কদিনে এত লাখ মানুষের শুনানি সম্ভব না, গণ বিক্ষোভও হচ্ছে৷ এই অজুহাতে বিজেপি SIR প্রক্রিয়া বন্ধ করতে চাইছে। আর একটি ভয়ঙ্কর ষড়যন্ত্র সামনে আসছে। লাখ লাখ বাঙালিকে হেনস্থার মাধ্যমে অরাজকতা সৃষ্টি করে এই SIR এর শুনানি প্রক্রিয়া ভোটের আগে নির্দিষ্ট সময়ে শেষ না হলে তারা রাষ্ট্রপতি শাসনে ভোট করার ষড়যন্ত্র করছে। বাঙালি বীর সুভাষের জাতি। এই ঘৃণ্য পরিকল্পনাও ভেস্তে দেবে।”
অরিন্দম চট্টোপাধ্যায় তার বক্তব্যে প্রতিটা হিন্দু বাঙালিকে শিক্ষা নিতে বলেন৷ বিজেপি যেভাবে হিন্দু বাঙালিকে হেনস্থা করছে তার বিরুদ্ধে গণ প্রতিরোধের ডাক দেন তিনি।

