📝 নিজস্ব সংবাদদাতা, Todays Story: আজ পৌষের শুক্লা একাদশী, আজ ত্রৈলঙ্গস্বামীর আবির্ভাব তিথি। মানুষকে সঠিক পথে পরিচালনা করতে যুগ যুগ ধরে বহু সাধক এই ভারতবর্ষের ধরাধামে এসেছেন। অনেকেই আমাদের পরিচিত। তার মধ্যেই একজন হলেন ত্রৈলঙ্গস্বামীজী।
ইনি সচরাচর আমাদের সেরকম পরিচিত নন, কিন্তু আমরা যারা ভারতবর্ষের সাধুদের নিয়ে পড়াশোনা করি, তার মধ্যে অন্যতম ব্যক্তিত্ব । প্রায় ২৮০ বছর জীবিত ছিলেন! অত্যন্ত কঠোর সাধনার দ্বারা তিনি মহাদেবকে নিজের মধ্যে স্থাপন করতে পেরেছিলেন, হয়ে উঠেছিলেন “কাশীর চলমান শিব”! বহু অলৌকিক গাথা যা সত্যি করেই ঘটেছিল, তার অনেক গল্প শোনা যায়। ত্রৈলঙ্গস্বামীর জন্মতিথি তে আজ শোনাবো সেরকমই এক গল্প।
অনেকেই বলেন সাধনার দ্বারা ত্রৈলঙ্গস্বামী এমন শক্তিশালী সাধক হন, তাতে কোনো বাহ্যিক অনুভূতি তার ওপর প্রভাব ফেলতে পারতো না। যেমন চরম ঠাণ্ডাতেও তিনি উলঙ্গ হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন, চরম গরমে তপ্ত বালির ওপর শুয়ে পড়ছেন! কোনো অসুবিধা হচ্ছেনা!
এরকমই একদিন তিনি গঙ্গার স্রোতে ভেসে আছেন, আর দূর থেকে নৌকায় আসতে থাকেন উজ্জয়িনীর মহারাজ। উদ্দেশ্য কাশী আগমন। ত্রৈলঙ্গস্বামীকে দেখে রাজার নৌকায় উপস্থিত অনেকেই এনার অলৌকিক ক্ষমতা সম্পর্কে কথা বলতে থাকল, যা শুনে রাজা নিজের নৌকায় স্বামিজী কে স্থান দিতে চাইলেন।
আর আশ্চর্যজনকভাবে ত্রৈলঙ্গস্বামী রাজার মনের কথা বুঝে নিজেই নৌকায় উঠে পড়েন!
নৌকায় বসে তিনি রাজার কোমরে থাকা মণিমাণিক্যে ভরা তলোয়ারের দিকে তাকিয়ে দেখতে থাকেন। রাজা সেই তলোয়ার স্বামীজী কে দিলে তিনি একটু দেখে শুনে তা গঙ্গায় ফেলে দিলেন!
এইবারে রাজা গেলেন ক্ষেপে! যেহেতু ঐ তলোয়ার ইংরেজরা রাজাকে উপহার দিয়েছিলেন, তাই রাজা স্বামীর সাধনা সম্পর্কে সন্দেহ প্রকাশ করে তিরষ্কার করতে থাকেন। রাজার সহকারীরা ডুবুরি আনে।
আশ্চর্য ঘটে এখানেই, ডুবুরি জলে নেমে ঐ একই তলোয়ার দুইটি পায়! তখন ত্রৈলঙ্গস্বামী দুইটি তলোয়ার দেখিয়ে রাজাকে জিজ্ঞাসা করে যে এর মধ্যে কোনটি তার সেটা বেছে নিতে।
রাজা পুরো বিষয়টিতে হতভম্ব হন, আলাদা করতে পারেন না। আর তখনই ত্রৈলঙ্গস্বামী রেগে রাজাকে অবুঝ বলেন। তিনি নিজেই নিজের জিনিস বেছে নিতে পারেন না।
তিনি আরো বলেন যে রাজার ভিতরে দম্ভ প্রবল, যা রাজাকে সঠিক জ্ঞান পথে চলতে দিচ্ছেনা। সহজ কথায় বুঝিয়ে দেন এই নশ্বর দেহ ছেড়ে একদিন চলে যেতে হবে, তখন কিন্তু আত্মার সাথে কোনো জাগতিক বস্তু যাবেনা। এখানেই ত্যাগ করে যেতে হবে। যে জিনিস মৃত্যুর পরেও মানুষের সাথে পরলোকে যায় না, তা কি করে মানুষ “নিজের ” বলে বড়াই করে? ক্রোধ প্রদর্শন করে?
বাস্তবেও ঠিক তাই। আমাদের এই ক্ষুদ্র জীবনে আমরা পার্থিব বিষয় আশয় নিয়ে মেতে থাকি, ভগবান চিন্তা কম করি। অথচ এইসব পার্থিব বিষয় আশয় মৃত্যুর পর আমাদের সাথে যাবে না। আমরা এসেছি একা, যাবোও একাই!
সাধকরা এইভাবেই জীবনের কঠিন তত্ত্ব সহজভাবে আমাদের বুঝিয়ে দেন, আমরা সমর্পণ করি তাদের কাছে নিজেদের। এর থেকে বেশি আর কিই বা করতে পারি?
আজ ত্রৈলঙ্গস্বামীজীর জন্মতিথি! ধন্য মাতা বিদ্যাবতী যিনি গর্ভে এই মানুষকে ধারণ করেছিলেন!

