খুঁটি পুজো সম্পন্ন করে দেবীপক্ষের ‘ভোর’ -এর অপেক্ষা শুরু গল্ফগ্রীন শারদোৎসব কমিটির

📝 নিজস্ব সংবাদদাতা, Todays Story: রাত পোহালে ভোর হয় ।নতুন একটা দিনের শুরু।নতুন ভাবনা।নতুন কর্মকান্ড । এরকমই একটা ভোরে বেতারে শোনা যায় মহিষাসুরমর্দিনী । আর তারপর শুরু হয় দেবীপক্ষ। এমনই এক ভোরের ভাবনাই এবার পুজোর থিমের সঙ্গে মিলে মিশে একাকার হয়ে গেছে । গত ২৭ জুন সম্পন্ন হল গল্ফগ্রীন শারদোৎসব কমিটির খুঁটি পুজো । তবে খুঁটি পুজোর আগে কালীঘাটে পুজো দেন পুজো উদ্যোক্তারা ।এবছর ৪৪ তম বর্ষে পুজোর ভাবনা ভোর। পুজো উদ্যোক্তাদের পাশাপাশি খুঁটি পুজোয় উপস্থিত ছিলেন পন্ডিত অজয় চক্রবর্তী , শিল্পী অলকানন্দা রায় , সাংসদ সায়নী ঘোষ, চাউম্যানের কর্ণধার দেবাদিত্য চৌধুরী , শিল্পী সৌমিত্র রায় ,ডেপুটি কমিশনার অফ পুলিশ (সাউথ সুবারবন)  বিদিশা কলিতা দাশগুপ্ত(আই পি এস) , অনীশ দাশগুপ্ত
(আই এ এস), পশ্চিমবঙ্গ সরোজগার নিগমের আধিকারিক  তন্ময় ঘোষ,  প্রখ্যাত অভিনেত্রী ও কলকাতা পুরসভার ১০৯ নম্বর ওয়ার্ডের প্রতিনিধি  অনন্যা ব্যানার্জী, বিখ্যাত ব্যবসায়ী অমিত টেকরিওয়াল   সহ আরো অনেকে।
এবছরের ভাবনা সম্পর্কে পুজো উদ্যোক্তারা জানান জানান , “রাত পোহালেই ফোটে ভোরের আলো। সূর্য জানান দেয় একটি নতুন দিনের শুরু।
বছরের প্রতিটি দিনই ভোর হয়, কিন্তু আপামর বাঙালি সারা বছর অপেক্ষা করে এক বিশেষ ভোরের জন্য।
সেটা শরতের এক অপরূপ ভোর—যেটি আর পাঁচটা ভোরের থেকে একেবারে আলাদা।সেই দিন, ধূপ-ধুনো আর কাশফুলের গন্ধে ভেসে আসে মা।মা আসেন সমস্ত বাঙালির হৃদয়ে, আসেন প্রতিটি গৃহে, প্রতিটি মন্দিরে,
আসেন তাঁর নিজের ‘বাপের বাড়ি’-তে।এই ভোরে কেবল সূর্য নয়, আলোয় জেগে ওঠে শহর, জেগে ওঠে গ্রাম,জেগে ওঠে ভালোবাসা, ঐতিহ্য আর ভক্তি।
আজকের এই আধুনিক সময়ে,যখন মোবাইল স্ক্রিনে হারিয়ে যাচ্ছে অনেক কিছু,স্মৃতির পাতা থেকে ঝরে পড়ছে কিছু অমূল্য মুহূর্ত,আমরা ফিরে তাকাতে চাই সেইসব হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যের দিকে।সেইসব মানুষদের দিকে,যাঁরা ছিলেন এই উৎসবের নেপথ্য নায়ক।যাঁরা মুখে মুখে তুলে ধরতেন আগমনী গান,
আর যাঁরা নিঃশব্দে আঁকতেন আমাদের শিকড়ের ছবি।
এই বছরের আমাদের উপস্থাপনা উৎসর্গ করা হল তাঁদেরই।এই শরতের ভোরে আমরা খুঁজে নিতে চাই নিজেদের।আমাদের সংস্কৃতি, আমাদের ঐতিহ্য, আর সেই হারিয়ে যাওয়া মানুষের মুখ।চলুন, এই যাত্রা শুরু হোক এক অপূর্ব ভোরের আলোতে।গলফ গ্রীন শারদোৎসব কমিটির নাম আজ দেশে, বিদেশে সমান ভাবে সমাদৃত। আমরা আশা রাখি, আমরা এই পুজোর পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের সমাজসেবা মূলক কর্মকান্ডের মধ্য দিয়ে মানুষের পাশে থাকতে চেষ্টা করে চলেছি যা আমাদের আগামী দিনেও বিভিন্ন কাজে পরিলক্ষিত হবে। “

এবছর গল্ফগ্রীন শারদোৎসব কমিটির দুর্গোৎসবের ভাবনা ও রূপায়ণে – সুশোভন রায়,প্রতিমা শিল্পী – দীপেন মন্ডল,আলোক শিল্পী – সৌমেন হালদার
আবহ – দেবায়ন ব্যানার্জী।